ডিজিটাল নেটওয়ার্ক অ্যাক্সেস-ডিএনএ

World best Online education and Money earning informer Network from Bangladesh.

Online education and Money eran Tutorial

Easy access,Get money eran sucess.Online money earn informer site.

Entertainment for All

All in One service in our site . Just access and go,enjoy,share with others .

All type of Android and iOS Mobile Apps

Enjoyale,smooth,easy,free Android,Windows Mobile Apps download now.

Dedicate Customer care 24/7-365

Exparince Customer care.Customer servie first,Any time, any where,any question, just ask me +880-1918-388-377

Showing posts with label ওয়েব ডিজাইন টিউটোরিয়াল. Show all posts
Showing posts with label ওয়েব ডিজাইন টিউটোরিয়াল. Show all posts

Saturday, 3 May 2014

ফটোশপে মাত্র ৪টি ধাপ অনুসরণ করে ম্যাট্রিক্স ওয়ালপেপার তৈরি করার সহজ টিউটোরিয়াল

হলিউডের বেশ জনপ্রিয় একটি মুভি ম্যাট্রিক্স। এই মুভির অসাধারন গ্রাফিক্স আমাদের সকলকেই মুগ্ধ করেছে। সাথে সাথে এই মুভির আদলে তৈরি করা ওয়ালপেপার গুলোও আমরা অনেকেই বেশ পছন্দ করি। এই পোষ্টে আমরা দেখব কিভাবে ফটোশপে খুব সহজেই নিচের ধাপ গুলো অনুসরন করে ম্যাট্রিক্সের ওয়ালপেপার তৈরি করা যায়।
ধাপ-১
প্রথমে এডোবি ফটোশপ খুলে একটি নতুন ফাইল খুলতে হবে। এরপর প্রয়োজন মত সাইজ(আমি 1024×768 নিয়েছি) নির্বাচন করে ok করুন।
ধাপ-২
এবার ব্যাকগ্রাউন্ড সাদা নির্বাচন করুন। এরপর যান Filter>Texture>Grain এবং ছবিতে দেখানো সেটিংস অনুসরন করুন।

ধাপ-৩
একইভাবে Filter>Artistic>Neon Glow এ গিয়ে নিচের সেটিংস গুলো অনুসরন করুন।

ধাপ-৪
এবার Filter>Stylize>Glowing Edges এ গিয়ে নিচের সেটিংস গুলো দিয়ে ok করুন।

ব্যাস!
এবার পছন্দমত টেক্সট দিয়ে তৈরি করুন আপনার কাঙ্ক্ষিত ওয়ালপেপারটি…….

পোষ্ট এখানেই শেষ নয়, সকলের সুবিধার্থে আরেকটি বোনাস লিঙ্ক।
অনলাইনে সকল বাংলাদেশী দৈনিকের লিঙ্ক একসাথে পেতে দেখুন- All Bangla Newspaper
পোষ্ট ভাল লাগলে মন্তব্য করুন, সকলের ইতিবাচক মতামতই আমাকে পরবর্তী পোষ্ট লেখার উৎসাহ যোগাবে।
সবাইকে ধন্যবাদ।

Thursday, 26 December 2013

জুমলা - ওয়েবসাইট তৈরির অসাধারণ এপ্লিকেশন

বর্তমান সময়ে কম্পিউটারে আমাদের দৈনন্দিন কর্মকান্ডগুলো হয়ে পড়ছে ইন্টারনেট নির্ভর। ওয়েব এপ্লিকেশনগুলো ধীরে ধীরে ডেস্কটপ এপ্লিকেশনের স্থান দখল করে নিচ্ছে। ছোট বড় যে কোন ধরনের ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি ওয়েবসাইট থাকাটা হয়ে পড়ছে বাধ্যতামূলক। যাদের প্রোগ্রামিং জানা আছে তারা হয়ত নিজের প্রতিষ্ঠানের জন্য ওয়েবসাইট নিজেই তৈরি করে নিতে পারবেন। তবে অন্যদের জন্য একটি ওয়েবসাইট তৈরির খরচ কিন্তু নেহায়েত কম নয়।

যুগের এই চাহিদা মেটাতে জুমলা (Joomla) হচ্ছে এমন একটি সফটওয়্যার যা দিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ওয়েসাইট তৈরি করা যাবে কোন রকমের প্রোগ্রামিং এবং টেকনিক্যাল জ্ঞান ছাড়াই। জুমলা হচ্ছে একটি কন্টেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (CMS)। কন্টেন্ট বলতে বোঝায় লেখা, ছবি, শব্দ, ভিডিও ইত্যাদি। জুমলার অসংখ্য বৈশিষ্ঠ্যের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে এর সহজ ব্যবহারযোগ্যতা এবং এটি দিয়ে যে কোন ধরনের ওয়েবসাইট তৈরির ক্ষমতা। জুমলা দিয়ে ইকমার্স ওয়েবসাইট থেকে শুরু করে অনলাইন ম্যাগাজিন, সংবাদপত্রের ওয়েবসাইট, সরকারী/বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট, ছোট-বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ওয়েবসাইট খুব সহজেই তৈরি করা যায়। সর্বোপরি জুমলা হচ্ছে ওপেন সোর্স যা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ব্যবহার করা যায়।
চিত্র: একটি জুমলা সাইটের হোমপেইজ

www.joomla.org ওয়েবসাইট থেকে বিনামূল্যে জুমলা ডাউনলোড করা যাবে। জুমলা তৈরি করা হয়েছে PHP এবং MySQL এর সমন্বয়ে। তাই জুমলা ইন্সটল করার পূর্বে কম্পিউটারে একটি ওয়েব সার্ভার ইন্সটল করে নিতে হবে। জনপ্রিয় একটি ওয়েব সার্ভার সফটওয়্যার হচ্ছে XAMPP। কম্পিউটারে জুমলা ইন্সটল করার পূর্ণাঙ্গ দিকনির্দেশনা পাওয়া যাবে help.joomla.org সাইট থেকে।
চিত্র: জুমলার এডমিনিষ্ট্রেশন প্যানেল
জুমলার এক্সটেনশন
যদিও জুমলাকে সাধারণভাবে কন্টেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বলা হয়, তবে জুমলার ব্যবহার শুধুমাত্র তথ্য ব্যবস্থাপনার উপরই সীমাবদ্ধ নয়। বিভিন্ন এক্সটেনশন (Extension) যোগ করে এটিকে যে কোন ধরনের ওয়েবসাইটে রূপান্তর করা যায়। এক্সটেনশন হচ্ছে অতিরিক্ত প্রোগ্রাম যা জুমলাকে নতুন নতুন বৈশিষ্ঠ্য দান করে। এই এক্সটেনশনগুলো জুমলার ব্যবহারকারীরাই তৈরি করে থাকে যা extensions.joomla.org সাইট থেকে বিনামূল্যে ডাউনলোড করা যায়। জুমলাতে একটি নতুন এক্সটেনশন যুক্ত করা খুবই সহজ, অনেকটা কোন অপারেটিং সিস্টেমে একটি সফটওয়্যার ইন্সটল করার মতই। এক্সটেনশনের zip ফাইলকে এডমিনিস্ট্রেশন প্যানেল থেকে আপলোড করে দিলেই হল। জুমলা পাঁচ ধরনের এক্সটেনশন সাপোর্ট করে: কম্পোনেন্ট, মডিউল, প্লাগইন, টেম্পলেট এবং ল্যাঙ্গুয়েজ।
১) কম্পোনেন্ট: জুমলা হচ্ছে একটি ওয়েব এপ্লিকেশন, আর কম্পোনেন্ট হচ্ছে জুমলার অভ্যন্তরে আরেকটি এপ্লিকেশন। কম্পোনেন্টগুলো জুমলার API এর উপর ভিত্তি করেই তৈরি করা হয়ে থাকে। জুমলাকে উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে কল্পনা করলে, জুমলার “কন্টেন্ট কম্পোনেন্ট” কে মাইক্রোসফট ওয়ার্ড হিসেবে বলা যায়। তবে অপারেটিং সিস্টেমে যেখানে এক সাথে একাধিক প্রোগ্রাম চালানো যায়, সেখানে জুমলার একটি পৃষ্টায় মাত্র একটি কম্পোনেন্ট লোড হয়। কম্পোনেন্টটি সেই পৃষ্ঠার মূল কাজগুলো সম্পন্ন করে থাকে।

২) মডিউল: মডিউলগুলো কম্পোনেন্টের বাইরে অবস্থান করে জুমলাকে অতিরিক্ত বৈশিষ্ঠ্য প্রদান করে। মডিউল সাধারণত একটি নির্দিষ্ট কাজের জন্য ব্যবহৃত হয়, যেমন মেনু, লিস্ট, ব্যানার প্রদর্শন করা ইত্যাদি।

৩) প্লাগইন: প্লাগইন এর নানা ব্যবহার রয়েছে। তবে সাধারণত একটি কম্পোনেন্টের ক্ষমতা বাড়াতে প্লাগইন ব্যবহৃত হয়ে থাকে। উদাহরণসরূপ TinyMCE টেক্সট এডিটর প্লাগইন এর সাহায্যে অনেকটা মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের মত করে লেখা সম্পাদন করা যায়।

৪) টেম্পলেট: টেম্পলেট একটি সাইটের লেআউট এবং ডিজাইন প্রদান করে থাকে। HTML/CSS দিয়ে তৈরি করা ডিজাইনকে একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করে খুব সহজেই জুমলার টেম্পলেটে রূপান্তর করা যায়। বিভিন্ন সাইটে জুমলার ফ্রি টেম্পলেট পাওয়া যায়, যা একটি মাত্র ক্লিকের মাধ্যমেই সাইটে ইন্সটল করা যায়। জুমলার ফ্রি টেম্পলেট পাওয়া যায় এরকম কয়েকটি সাইট হচ্ছে www.joomla24.com, www.freetemplatehome.com, www.joomlatp.com।

৫) ল্যাঙ্গুয়েজ: বাংলাসহ বিশ্বের ৬০টিরও অধিক ভাষায় জুমলা পাওয়া যায়। অন্যান্য এক্সটেনশন যোগ করার মত জুমলায় ভাষা পরিবর্তন করাও খুব সহজ।



জুমলার এক্সটেনশন ওয়েবসাইটে এই মূহুর্তে ৬৬৭০টি এক্সটেনশন পাওয়া যাচ্ছে। এদের মধ্য থেকে জনপ্রিয় কয়েকটি এক্সটেনশনের সাথে পরিচিত হওয়া যাক।

VirtuMart:ভার্চুমার্ট এক্সটেনশনের সাহায্যে জুমলাকে একটি পূর্ণাঙ্গ ইকমার্স সাইটে রূপান্তর করা যায়। এর শক্তিশালী এডমিনিস্ট্রেশন প্যানেলের সাহায্যে অসীম সংখ্যক ক্যাটাগরি, প্রোডাক্ট, অর্ডার, ডিসকাউন্ট, কাস্টমার ব্যবস্থাপনা করা যায়। ভার্চুমার্ট প্রায় সকল জনপ্রিয় পেমেন্ট এবং শিপিং মডিউল সাপোর্ট করে। www.virtuemart.net সাইট থেকে জুমলার আলাদা এক্সটেশন হিসেবে অথবা জুমলায় পূর্ব থেকে ইন্সটল করা অবস্থায় একে ডাউনলোড করা যায়।

JCE: এটি হচ্ছে একটি শক্তিশালী টেক্টট এডিটর যা TinyMCE এডিটরের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। এই এডিটরের সাথে মিডিয়া, ফাইল ও লিংক ব্যবস্থাপনা, প্লাগইন সাপোর্ট এবং এডিটেরের সেটিং পরিবর্তনের জন্য একটি উন্নত এডমিনিস্ট্রেশন প্যানেল রয়েছে।

Community Builder: এই এক্সটেনশনটি জুমলার ইউজার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমকে বর্ধিত করে জুমলাকে কমিউনিটি ওয়েবসাইটে পরিবর্তন করে। এর মূল ফিচারগুলো হল - প্রোফাইলে অতিরিক্ত ফিল্ড যুক্ত করা, উন্নত রেজিষ্ট্রেশন পদ্ধতি, ব্যবহারকারীর লিস্ট ইত্যাদি।

AllVideos: এটি একটি অপরিহার্য অডিও/ভিডিও ম্যানেজমেন্ট এক্সটেনশন। এটি প্রায় সকল ধরনের মিডিয়া ফাইল চালাতে পারে। পাশাপাশি Youtube, Metacafe, Vimeo এর মত জনপ্রিয় সাইটের ভিডিও জুমলায় যুক্ত করতে পারে।

Phoca Gallery: এটি হচ্ছে একটি চমৎকার ও দৃষ্টিনন্দন ফটো গ্যালারী। এই কম্পোনেন্টটি ছবিকে স্লাইডশো এর মাধ্যমে দেখাতে পারে। একটি আধুনিক ফটো গ্যালারীর সকল বৈশিষ্ট্যই এতে রয়েছে।

JoomFish: একাধিক ভাষায় ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য এটি একটি অপরিহার্য এক্সটেনশন। এর সাহায্যে জুমলার যে কোন কন্টেন্টকে খুব সহজেই অনুবাদ করা যায়।

Kunena: এটি হচ্ছে জুমলার প্রধান ফোরাম কম্পোনেন্ট। এর সাহায্যে খুব সহজেই কমিউনিটি ভিত্তিক ফোরাম সাইট তৈরি করা যায়। এক্সটেনশনটি গত দুই বছরে সাড়ে আট লক্ষবার ডাউনলোড হয়েছে, যা এর জনপ্রিয়তা সহজেই প্রমাণ করে।

ChronoForms: যেকোন ধরনের ফর্ম তৈরির জন্য এটি একটি অসাধারণ এক্সটেনশন। এই কম্পোনেন্টের সাহায্যে ড্রাগ-এন্ড-ড্রপ পদ্ধতিতে ফর্ম তৈরি করা যায়। অন্যান্য এক্সটেনশনের মত এটিও বিনামূল্যে ব্যবহার করা যায়, তবে প্রতিটি ফর্মের নিচে ডেভেলপারের সাইটের লিংক থাকে। ডেভেলপারকে ছোট একটি ফি দিয়ে লিংকটি সরানো যায়।

Extented Menu: এই মডিউলের সাহায্যে CSS ভিত্তিক দৃষ্টিনন্দন মেন্যু তৈরি করা। মেন্যুর ভেতরে সাব-মেন্যুও খুব সহজে এটি দিয়ে তৈরি করা যায়।

JComments: এই এক্সটেনশন দিয়ে সাইটে মন্তব্য দেয়ার বৈশিষ্ট্য যুক্ত করা যায়। এটি একটি Ajax ভিত্তিক কমেন্ট সিস্টেম যা Smiles, BBCode এবং Avatar সাপোর্ট করে।


ফ্রিল্যান্সারদের জন্য জুমলা হতে পারে আয়ের প্রধান উৎস। আউটসোর্সিং এর কাজের পাশাপাশী দেশী ক্লায়েন্টদের কাছেও জুমলার ভাল কদর রয়েছে। আমাদের দেশে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন ব্যাংকের সহায়তায় দেশীয় ইকমার্সের প্লাটফর্ম তৈরি হয়ে গেছে। এক্ষেত্রে জুমলা দিয়ে খুব সহজেই ইকমার্স ওয়েবসাইটের চাহিদা পূরণ করা যাবে। অন্যদিকে অনলাইনে প্রায় সকল মার্কেটপ্লেসগুলোতেই জুমলার কাজ পাওয়া যায়। তাছাড়া জুমল্যান্সার্স (www.joomlancers.com) নামে একটি আউটসোর্সিং মার্কেটপ্লেস রয়েছে যেখানে শুধুমাত্র জুমলার কাজ পাওয়া যায়

লেখক - মোঃ জাকারিয়া চৌধুরী
বিঃদ্রঃ - এই লেখাটি "মাসিক কম্পিউটার জগৎ" ম্যাগাজিনের "জানুয়ারী ২০১১" সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে

ওয়েব ডেভেলপারদের জন্য কয়েকটি তথ্য

অনলাইনে যতধরনের কাজ পাওয়া যায় তার মধ্য সবচেয়ে বেশি কাজ হচ্ছে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট নিয়ে। ওয়েবসাইট তৈরি, পরিবর্তন, পরিবর্ধন, ওয়েসাইট ক্লোন, টেম্পলেট বা ওয়েবসাইটের জন্য ডিজাইন তৈরি করা, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বা SEO ইত্যাদি এর মধ্যে অন্তর্ভূক্ত। ওয়েবসাইট তৈরি করা ক্ষেত্রে স্ক্রিপ্টিং ল্যাঙ্গুয়েজ হিসেবে সবচাইতে বেশি ব্যবহৃত হয় PHP এবং ডাটাবেইজ হিসেবে MySQL । PHP অত্যন্ত সহজ একটি ল্যাঙ্গুয়েজ যা এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে শেখা সম্ভব। এ নিয়ে বাজরে প্রচুর বই পাওয়া যায়। আর Google-এ সার্চ করে আপনি প্রচুর কোড, টিউটরিয়াল, ওপেনসোর্স স্ক্রিপ্ট পেয়ে যাবেন। PHP এবং MySQL এর সাথে সাথে আপনাকে HTML, Javascript, CSS, XML ইত্যাদি বিষয়ের উপরও ভাল জ্ঞান থাকতে হবে। এজন্য আপনি www.w3schools.com সাইটের সাহায্য নিতে পারেন।

PHP এবং MySQL শেখার পর এবার নিজে কয়েকটি ওয়েবসাইট তৈরি করুন। সাইটের আইডিয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের ওয়েবসাইট পর্যবেক্ষণ করুন এবং এক বা একাধিক ওয়েবসাইটের ক্লোন করার চেষ্টা করুন। এতে আপনি একটি ওয়েবসাইটে কি কি ফিচার থাকতে পারে সে সম্পর্কে একটি পরিষ্কার ধারণা পাবেন। ফ্রিল্যান্সিং সাইটে আপনি পূর্ব কাজের অভিজ্ঞতা হিসেবে এই কাজগুলো উল্লেখ করতে পারেন এবং ক্লায়েন্টকে আপনার তৈরিকৃত ওয়েবসাইটগুলোর স্ক্রিনশট দেখাতে পারেন।

অনেক ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নতুন ওয়েবসাইট তৈরি না করে ক্লায়েন্টরা বিভিন্ন ধরনের ওপেন সোর্স স্ক্রিপ্ট পছন্দ করে। জনপ্রিয় কয়েকটি স্ক্রিপ্ট হচ্ছে osCommerce, ZenCart, Joomla, Drupal, Wordpress ইত্যাদি। এই স্ক্রিপগুলোকে পরিবর্তন করা, নতুন মডিউল বা ফিচার যোগ করা, ডিজাইন পরিবর্তন করা ইত্যাদি নিয়ে অসংখ্য কাজ পাওয়া যায়। আপনি শুধুমাত্র এরকম এক বা একাধিক স্ক্রিপ্ট নিয়ে কাজ করতে পারেন। এমন অনেক সফটওয়্যার ফার্ম আছে যারা কেবলমাত্র Joomla বা osCommerce এর উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

ওয়েবসাইট ডিজাইন - সম্ভাবনাময় ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার

ইন্টারনেটে আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে আয়ের যে সকল পদ্ধতি রয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে ওয়েবসাইট তৈরির কাজগুলোতে। এর একটা প্রধান কারণ হচ্ছে ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়ীক উদ্দ্যেশ্যে ইন্টারনেটের উপর ক্রমবর্ধমান নির্ভরশীলতা। কারণ একটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে একটি প্রতিষ্ঠান একদিকে যেভাবে তার গ্রাহকদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করতে পারে, অপরদিকে বিভিন্ন শহরে বা বিভিন্ন দেশে অবস্থিত নিজস্ব শাখার সাথে আন্তঃযোগাযোগও সহজে এবং কম খরচে করতে পারে। তাই বর্তমান সময়ে একটি ডেস্কটপ সফটওয়্যার তৈরি করার চাইতে ওয়েব এপ্লিকেশন তৈরি করার দিকেই সবার ঝোঁক থাকে।
একটি পূর্ণাঙ্গ ওয়েবসাইট দুটি বিষয়ের সংমিশ্রণে তৈরি করা হয়, যার একটি হচ্ছে ওয়েবসাইটি কিভাবে কাজ করবে তার নির্দেশনা দেয়ার জন্য প্রোগ্রামিং এবং অপর অংশ হচ্ছে এর বহিরাবরণ বা ডিজাইন। ওয়েবসাইট নির্দেশনা সাধারণত PHP, ASP, Python, Perl, Ruby ইত্যাদি প্রোগ্রামিং ভাষায় লেখা হয় এবং ডাটাবেইজ হিসেবে MySQL, MS SQL, PostgreSQL ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়। অনলাইনে ওয়েবসাইট প্রোগ্রামিং এর কাজই সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়। যারা কম্পিউটার সায়েন্স বা এর সাথে সম্পর্কিত বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে পড়ালেখা করেছে তারা ওয়েবসাইট প্রোগ্রামিং করে থাকে। তবে অনেকেই আছেন যারা শুধুমাত্র নিজের চেষ্টায় প্রোগ্রামিং শিখে বর্তমানে বেশ ভাল অবস্থায় আছেন।

নিজে নিজে প্রোগ্রামিং শেখাটা একটি সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। একটি প্রোগ্রামিং ভাষা শেখা থেকে শুরু করে তাতে পরিপূর্ণ দক্ষ হতে বছরখানেক সময় লেগে যেতে পারে। অন্যদিকে ওয়েবসাইট ডিজাইন তুলনামূলকভাবে ততটা সময়সাপেক্ষ নয়, ব্যক্তি ভেদে তিন থেকে ছয় মাস সময় লাগতে পারে। আয়ের দিক থেকে ওয়েবসাইট প্রোগ্রামিং পরই রয়েছে ওয়েবসাইট ডিজাইনের ব্যাপক সম্ভাবনা। ওয়েবসাইট ডিজাইন শেখার জন্য অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তবে ইন্টারনেটে এই বিষয়ে যে পরিমাণ টিউটোরিয়াল রয়েছে তা থেকে ঘরে বসে সম্পূর্ণ নিজের চেষ্টাতেই ডিজাইনিং শেখা সম্ভব।

প্রয়োজনীয় দক্ষতাসমূহ
একটি ওয়েবসাইটে তথ্য কিভাবে বিন্যস্ত থাকবে তার উপর ভিত্তি করে দুটি ভাগে ভাগ করা যায় - স্ট্যাটিক (Static) এবং ডাইনামিক (Dynamic) ওয়েবসাইট। স্ট্যাটিক ওয়েবসাইটে ওয়েবসাইটের তথ্য কখনো পরিবর্তন হয় না, অন্যদিকে ডাইনামিক ওয়েবসাইটের তথ্য ব্যবহারকারীর চাহিদার উপর ভিত্তি করে পরিবর্তিত হয়। স্ট্যাটিক ওয়েবসাইটেকে প্রোগ্রামিং এর মাধ্যমে ডাইনামিক ওয়েবসাইটে পরিণত করা হয়। একটি ওয়েবসাইটের ডিজাইন তৈরি করা থেকে শুরু করে এটিকে একটি স্ট্যাটিক ওয়েবসাইটে পরিণত করতে কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করতে হয়। একজন সফল ওয়েবসাইট ডিজাইন ফ্রিল্যান্সার হতে হলে কেবল ডিজাইনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে একটি স্ট্যাটিক ওয়েবসাইট তৈরির অন্যান্য বিষয় যেমন - Template তৈরি, HTML, CSS, Javascript ইত্যাদিতেও দক্ষ হওয়া প্রয়োজন। নিচে পর্যায়ক্রমে বিষয়গুলো আলোকপাত করা হল -

১) টেম্পলেট তৈরি:
ওয়েবসাইটের একটি ডিজাইনকে ওয়েবসাইট টেম্পলেট (Template) বলা হয়। টেম্পলেট সাধারণত Adobe Photoshop, Illustrator, Flash ইত্যাদি সফটওয়্যারের মাধ্যমে তৈরি করা হয়। বর্তমানে ওপেন সোর্স ব্যবহারকারীদের কাছে Gimp নামক সফটওয়্যারটিও টেম্পলেট তৈরির জনপ্রিয় একটি টুলে পরিণত হয়েছে। এদের মধ্যে ফটোশপ সফটওয়্যারই সবচেয়ে জনপ্রিয়। অন্যদিকে ফ্লাশ দিয়ে এনিমেটেড ও দৃষ্টিনন্দন ওয়েবসাইট তৈরি করা যায়। ফ্লাশের কাজেরও ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ফ্লাশের ActionScript নামক নিজস্ব প্রোগ্রামিং ভাষা আছে। শুধুমাত্র ফ্লাশ দিয়েই সম্পূর্ণ একটি ডাইনামিক ওয়েবসাইট তৈরি করা যায়। ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এ যারা আসতে আগ্রহী তারা ফটোশপ অথবা ফ্লাশ থেকে যেকোন একটিকে বেছে নিতে পারেন।

একজন ওয়েবসাইট ডিজাইনারের সমসাময়িক ওয়েবসাইটের ডিজাইন সম্পর্কে ভাল ধারণা থাকতে হবে। বর্তমানের বেশিরভাগ ওয়েবসাইটগুলো Web 2.0 নামক একটি স্ট্যান্ডার্ড মেনে চলে। একে দ্বিতীয় প্রজন্মের ওয়েবসাইট ডিজাইনও বলা হয়। সহজভাবে বললে Web 2.0 মানের একটি ওয়েবসাইটির নিচে উল্লেখিত বৈশিষ্ট্যগুলোর কয়েকটি বা সবগুলো থাকতে পারে:
  • সাধারণ ও পরিচ্ছন্ন ইন্টারফেস যাতে ওয়েবসাইটের তথ্যগুলো সহজেই পড়া যায়
  • মূল ডিজাইন ব্রাউজারের মাঝামাঝি স্থানে অবস্থান করবে, অন্যদিকে অতীতের ওয়েবসাইটগুলো ব্রাউজারের বাম দিকে সরানো থাকত
  • ওয়েবপেইজের কলাম সংখ্যা কম থাকবে
  • পেইজের উপরের অংশ পরিষ্কারভাবে ওয়েবসাইটের কন্টেন্ট অংশ থেকে আলাদা থাকবে
  • সহজে ব্যবহারযোগ্য নেভিগেশন
  • লোগো বোল্ড থাকবে
  • লেখাগুলো বড় থাকবে যাতে পড়তে আরামদায়ক হয়
  • সূচনা লেখা বোল্ড থাকবে
  • বাটন এবং ডিজাইনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে 3D ও Reflection এফেক্ট নিয়ে আসা
  • উজ্জ্বল রঙের সংমিশ্রণ
  • Gradient বা গাঢ় থেকে হালকা রঙের সমন্বয়
  • সুন্দর ও নজরকাড়া আইকন

২) HTML এ রূপান্তর:
একটি ওয়েবপেইজ অক্ষর, ছবি, লিংক ইত্যাদির সমন্বয়ে গঠিত যা HTML নামক একটি ভাষায় লেখা হয়। এটি কোন প্রোগ্রামিং ভাষা নয়, বরং একটি ওয়েবপেইজকে ব্রাউজারে প্রদর্শন করার ডকুমেন্ট ফরমেট। HTML এর উন্নত সংস্করণ হচ্ছে XHTML যা XML নামক আরেকটি ভাষার নিয়ম অনুসরণ করে। HTML বা XHTML এ দক্ষ হতে এক সপ্তাহের বেশি সময় লাগবে হবে না। অনলাইনে অনেক টিউটোরিয়াল সাইট রয়েছে, তবে সবচেয়ে সহজ ও ভাল টিউটোরিয়াল পাওয়া যাবে www.w3schools.com নামক ওয়েবসাইটে।

ফটোশপ দিয়ে তৈরি করা ওয়েবসাইটের টেম্পলেটকে সাধারণত PSD ফরমেটে সেইভ করা হয়। প্রকৃতপক্ষে PSD ফাইলে টেম্পলেটকে সংরক্ষণ করা পর্যন্ত একজন ডিজাইনারের কাজ শেষ হয়ে যায়। তবে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে বাড়তি আয় করতে চাইলে HTML জানাটাও জরুরী। ডিজাইনকে ওয়েবপেইজে রূপান্তর করতে হলে HTML দিয়ে কোডিং করতে হবে। এই রূপান্তরের প্রক্রিয়া ডিজাইন ভেদে ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। সাধারণত ফটোশপে Slice নামক একটি টুল আছে যা দিয়ে ডিজাইনকে HTML এ রূপান্তর করা যায়। কেবলমাত্র PSD থেকে HTML এ রূপান্তর করার কাজও ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেস সাইটগুলোতে পাওয়া যায়।


৩) CSS প্রয়োগ:
CSS হচ্ছে এক ধরনের স্টাইলশীট ভাষা যা দিয়ে একটি ওয়েবসাইটের ডিজাইনকে প্রদর্শন করা হয়। ওয়েবসাইটের ডিজাইনকে সাধারণত HTML ডকুমেন্টে সরাসরি না লিখে আলাদা একটি CSS ফাইলে ভিন্ন ভিন্ন Class তৈরি করা হয়। এরপর HTML ডকুমেন্টে ওই CSS ফাইলের লিংক দেয়া হয় এবং HTML এর বিভিন্ন অংশে বা Tag এ সেই ক্লাসগুলোকে যুক্ত করা হয়। HTML এর একটি নির্দিষ্ট অংশের ফন্ট দেখতে কিরকম হবে, লেখার পেছনে ছবি বা রং কোনটা থাকবে, বর্ডার থাকবে কি না ইত্যাদি স্টাইল সম্পর্কিত নির্দেশনা ক্লাসগুলোতে দেয়া হয়।


CSS দিয়ে HTML ডকুমেন্টে স্টাইল বা ডিজাইন তৈরি করার অনেকগুলো সুবধা রয়েছে। উল্লেখযোগ্য দুটি সুবিধার একটি হচ্ছে, HTML এর বিভিন্ন অংশে বা বিভিন্ন পৃষ্ঠায় খুব সহজে একই স্টাইল দেয়া যায়। অন্য আরেকটি সুবিধা হচ্ছে কেবলমাত্র CSS ফাইলকে পরিবর্তন করে একটি ওয়েবসাইটের চেহারা মুহূর্তের মধ্যে পরিবর্তন করা সম্ভব। CSS এর প্রথমিক ধারণা পেতে কয়েক ঘন্টা সময়ের প্রয়োজন এবং www.w3schools.com সাইটিই যথেষ্ঠ। তবে CSS এ পূর্ণ দখল আনতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন।


৪) Javascript:
জাভাস্ক্রিপ্ট হচ্ছে একটি প্রোগ্রামিং ভাষা যাকে ব্রাউজার সাইড স্ক্রিপ্টিং ভাষা বলা হয়। অন্যদিকে PHP বা ASP হচ্ছে সার্ভার সাইড স্ক্রিপ্টিং ভাষা। জাভাস্ক্রিপ্টের সুবিধা হচ্ছে এটি সরাসরি ব্যবহারকারীর কম্পিউটারের রিসোর্স ব্যবহার করে দ্রুততার সাথে কাজ করে। যা একটি ওয়েবসাইটকে ইউজার ফ্রেন্ডলি করে তোলে। জাভাস্ক্রিপ্টে দক্ষ হতে অবশ্যই ভাল প্রোগ্রামিং জ্ঞানের প্রয়োজন রয়েছে। তবে ডিজাইনাররাও জাভাস্ক্রিপ্টের কিছু সুবিধা গ্রহণ করে ডিজাইনকে আরো প্রাণবন্ত করে তুলতে পারেন। জাভাস্ক্রিপ্ট প্রোগ্রামিংকে সহজ করতে বেশ কিছু ফ্রেমওয়ার্ক বা কোডিং লাইব্রেরি পাওয়া যায়। এগুলোর মধ্য সবচেয়ে জনপ্রিয় হচ্ছে jQuery নামক লাইব্রেরিটি। এটি দিয়ে খুব সহজেই বিভিন্ন ধরনের এনিমেশন, নজরকাড়া এফেক্ট, দরকারী টুল ইত্যাদি তৈরি করা যায়। এটি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাবেন www.jQuery.com ওয়েবসাইট থেকে। jQuery দিয়ে তৈরি অসংখ্য টুল অনলাইনে ফ্রি পাওয়া যায়।



ডিজাইন শেখার কয়েকটি সাইট পরিচিতি
নিচে ফটোশপ দিয়ে ওয়েবসাইট ডিজাইনিং শেখার কয়েকটি জনপ্রিয় সাইটকে তুলে ধরা হল -

www.psdtuts.com
ফটোশপের বিভিন্ন এফেক্ট শেখার জন্য এটি একটি চমৎকার টিউটোরিয়াল ব্লগ সাইট। প্রায় প্রতিদিনই নতুন নতুন টিউটোরিয়াল এই সাইটে আসে। এই সাইটে ফটোশপ দিয়ে একটি ছবি এফেক্ট দেয়া থেকে শুরু করে ওয়েবসাইট ডিজাইন পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ের টিউটোরিয়াল পাওয়া যায়। টিউটোরয়ালের পাশাপাশি ফটোশপ নিয়ে বিভিন্ন আর্টিকেল এই সাইটে লেখা হয়। লেখাগুলো খুবই মানসম্মত এবং পর্যাপ্ত ছবি দিয়ে পরিষ্কারভাবে বর্ণনা করা। মানসম্মত হওয়ার একটা কারণ হচ্ছে লেখাগুলো ফটোশপ এক্সপার্টরাই লিখে থাকেন যাদেরকে প্রতিটি লেখার জন্য ১৫০ ডলার প্রদান করা হয়। আপনিও যদি ফটোশপে এক্সপার্ট হয়ে থাকেন এবং ইংরেজিতে সহজভাবে লিখতে পারেন তাহলে টিউটরিয়াল তৈরি করে এই সাইট থেকে নিয়মিত আয় করতে পারেন।

www.psdfan.com
এই সাইটেও খুবই মানসম্মত টিউটোরিয়াল পাওয়া যায়। প্রতি এক-দুই দিন পর পর নতুন টিউটোরিয়ার আসে। টিউটোরিয়ালগুলো প্রধানত ফটো এফেক্ট, ড্রয়িং, টেক্সট এফেক্ট, ওয়েবসাইট ডিজাইন ইত্যাদি বিষয়ের উপর লেখা হয়। টিউটোরিয়ালের পাশাপাশি বেশকিছু গ্রাফিক্স, আইকন, ফটোশপ ব্রাশ, টেক্সচার এবং ছবি বিনামূল্যে ডাউনলোড করা যায়। সাইটে বিভিন্ন ফটোশপ এক্সপার্টদের সাক্ষাৎকারও প্রকাশ করা হয়।


www.pslover.com
এই সাইটের নিজস্ব কোন টিউটোরিয়াল নেই, বরং ওয়েবে ছড়িয়ে থাকা ফটোশপের বিভিন্ন টিউটোরিয়ালকে এখানে লিস্ট আকারে সাজানো হয়। এই সাইটে সাড়ে বারো হাজারের বেশি ফটোশপের টিউটোরিয়ালের একটি সম্ভার পাবেন। টিউটোরিয়ালগুলো বিভিন্ন বিভাগে সাজানো থাকে, ফলে সহজেই প্রয়োজনীয় তথ্য খোঁজে পাওয়া যায়। বিভাগের পাশাপাশি আইকনের মাধ্যমে টিউটোরিয়ালগুলো সাজানো থাকে।


www.nettuts.com
এটি ওয়েবসাইট ডিজাইনার এবং প্রোগ্রামার উভয়ের জন্য খুবই সাহায্যকারী একটি টিউটোরিয়াল সাইট। HTML, CSS, Javascript, Ajax, jQuery, PHP, Ruby, Wordpress ও ডিজাইন সংক্রান্ত আরো অনেক বিষয়ের উপর ছবি সহকারে এবং সহজ ভাষায় টিউটোরিয়াল পাওয়া যায়। এই সাইটে ভিডিওর মাধ্যমে অনেক টিউটোরিয়াল প্রকাশ করা হয়। ডিজাইনারদের জন্য সাহায্যকারী অনেক টুল সাইট থেকে ফ্রি ডাউনলোড যায়। এই সাইট থেকেও টিউটোরিয়াল লিখে প্রতিটির জন্য ১৫০ ডলার করে আয় করা যায়।


www.photoshopstar.com
ফটোশপ দিয়ে দৃষ্টিনন্দন এফেক্ট তৈরির টিউটোরিয়াল নিয়ে জনপ্রিয় এই সাইটটি সাজানো হয়েছে। সাইটটিতে ফটোশপের এফেক্ট, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ফটো এফেক্ট, টেক্সট এফেক্ট, ওয়েব গ্রাফিক্স, ওয়েবসাইট ডিজাইন ইত্যাদি বিষয়ের উপর টিউটোরিয়াল পাওয়া যায়। ওয়েবসাইট ডিজাইন বিভাগে একটি সম্পূর্ণ ওয়েবসাইট কিভাবে তৈরি করতে হয় তা ছবি সহকারে বর্ণনা করা হয়েছে।



এই লেখায় মাত্র কয়েকটি টিউটোরিয়াল সাইট নিয়ে আলোচনা করা হল। কিন্তু এর বাইরে আরো অসংখ্য টিউটোরিয়াল সাইট রয়েছে যা থেকে খুব সহজেই আপনি ওয়েবসাইট ডিজাইনে এক্সপার্ট হতে পারবেন। নিচে এরকম আরো কয়েকটি সাইটের লিংক দেয়া হল:

অনলাইনে টিউটোরিয়ালের পাশাপাশি বাজারে ফটোশপের মানসম্মত ভিডিও টিউটোরিয়াল সিডি, বই ইত্যাদি পাওয়া যায়, যা থেকে ফটোশপের প্রাথমিক কৌশল রপ্ত করতে পারেন। তবে ভাল ওয়েবসাইট ডিজাইনার হতে হলে বেশি করে অনলাইনে বিভিন্ন ওয়েবসাইটের ডিজাইন দেখতে হবে। উন্নতমানের ডিজাইন বিক্রি করে এরকম ওয়েবসাইটের মধ্যে রয়েছে - www.dreamtemplate.com, www.templatemonster.com , www.templateworld.com ইত্যাদি। এই সাইটগুলোতে ডিজাইনের প্রিভিউ দেখা যায়। নতুন ডিজাইনাররা প্রথম অবস্থায় চেষ্টা করুন ঠিক একই ধরনের ডিজাইন আপনিও তৈরি করতে পারছেন কিনা। এভাবে শিখতে থাকলে একদিকে যেমন সমসাময়িক ওয়েবসাইট ডিজাইন সম্পর্কে ভাল ধরাণা তৈরি হবে, অন্যদিকে সম্পূর্ণ নতুন একটি ওয়েবসাইট ডিজাইন তৈরির আইডিয়াও পাবেন। ওয়েবসাইট ডিজাইন থেকে অনলাইনে আয় করা যায় এরকম সাইট নিয়ে পরবর্তী লেখায় আলোচনা করা হবে।

এনভাটো - ডিজাইন কেনাবেচার মার্কেটপ্লেস

এনভাটো (www.Envato.com) হচ্ছে একটি অস্ট্রেলিয়া ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান যা অনেকগুলো মার্কেটপ্লেস এবং কয়েকটি টিউটোরিয়াল ওয়েবসাইট নিয়ে গঠিত। এনভাটোর প্রত্যেকটি ওয়েবসাইট ই অত্যন্ত আকর্ষণীয় এবং উন্নত বৈশিষ্ট্যে পরিপূর্ণ। ২০০৬ সালে একটি লিভিং রুম থেকে যাত্রা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি আজ দেড় লক্ষ ব্যবহারকারী নিয়ে সগৌরবে এগিয়ে চলেছে। পুরো প্রতিষ্ঠানটিই গঠিত হয়েছে ইমেইল এবং স্কাইপ সফটওয়্যারের সাহায্যে যোগাযোগের মাধ্যমে, যাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে উন্নতমানের সার্ভিস প্রদান, ইন্টারনেটে বিভিন্ন কমিউনিটি তৈরি এবং নিরবিচ্ছিন্নভাবে মানসম্মত কনটেন্ট প্রদান করা।

এনভাটো মার্কেটপ্লেস FlashDen, AudioJungle,
VideoHive, ThemeForest এবং GraphicRiver নামক পাঁচটি সাইট নিয়ে গঠিত। প্রত্যেকটি সাইটের গঠন এবং ব্যবহার পদ্ধতি একই রকম। যেকোন একটি সাইটে রেজিষ্ট্রেশন করে অন্য সকল সাইটে একই ব্যবহারকারী একাউন্ট দিয়ে প্রবেশ করা যায়। যে কেউ ইচ্ছে করলেই এই এনভাটো মার্কেটপ্লেসে রেজিষ্ট্রেশন করতে পারবে এবং তাদের যে কোন সাইট থেকে আয় করতে পারবে। এই লেখাটি www.ThemeForest.net সাইটের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে।



থিমফরেস্ট সাইটটি ওয়েবসাইট ডিজাইন বা টেম্পলেট ক্রয়-বিক্রির জন্য বিশেষভাবে গঠিত। সবগুলো টেম্পলেট মূল পাঁচটি ভাগে বিভক্ত। এগুলো হচ্ছে HTML টেম্পলেট, Wordpress, PSD টেম্পলেট, Joomla এবং অন্যান্য। সাধারণত ফটোশপ দিয়ে ওয়েবসাইটের টেম্পলেটগুলো তৈরি করা হয়, যা "কম্পিউটার জগৎ" এর গত সংখ্যায় বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। এনভাটো মার্কেটপ্লেসে যারা ডিজাইন বা অন্যান্য প্রোগ্রামের ফাইল বিক্রি করে তাদের প্রত্যেককে Author বা লেখক হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সাইটগুলোর লেখক হতে হলে প্রথমে ছোটখাট একটি কুইজে অংশগ্রহণ করতে হয়। প্রকৃতপক্ষে এটি হচ্ছে সাইটের সকল নিয়মকানুন সম্পর্কে অবগত হওয়া এবং তাতে সম্মতি জ্ঞাপন করা।

যেভাবে মার্কেটপ্লেসটি কাজ করে
একজন লেখক হিসেবে প্রথমে আপনি আপনার ইচ্ছেমত যেকোন ধরনের একটি ওয়েবসাইটের টেম্পলেট তৈরি করবেন। কাজ শেষে টেম্পলেটের ফাইলটি একটি ফর্মের সাহায্য সাইটে আপলোড করবেন। এরপর সাইটের কর্তৃপক্ষ ফাইলটি যাচাই করে দেখবে এটি যথাযথ কাজ করে কিনা এবং থিম বা টেম্পলেট লাইব্রেরীতে অন্তর্ভুক্তির জন্য উপযুক্ত কিনা। আপনার টেম্পলেটটি গ্রহণযোগ্য হলে সাইটের কর্তৃপক্ষ এটির জন্য উপযুক্ত একটি মূল্য নির্ধারণ করে সাইটে আপলোড করবে। আর যদি কাজটি গ্রহনযোগ্য না হয় তাহলে কর্তৃপক্ষ আপনাকে টেম্পলেটটি পরিবর্তন করার যথাযথ দিকনির্দেশনা দিবে অথবা সাইটের জন্য একদমই অনুপযুক্ত কিনা তা ইমেইলের মাধ্যমে জানাবে।

আপনার টেম্পলেটটি বিক্রির জন্য সাইটে স্থান পেলে, প্রত্যেকবার এটি বিক্রির উপর একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ আপনাকে দেয়া হবে। আপনি যদি আপনার কাজ এক্সক্লুসিভভাবে এই সাইটে বিক্রির জন্য সম্মত হন তাহলে প্রতিটি টেম্পলেটের মূল্যের ৪০% অর্থ আপনাকে দেয়া হবে। অর্থাৎ থিমফরেস্ট সাইটে বিক্রির জন্য আপলোড করা কোন টেম্পলেট অন্য কোথাও পুনরায় বিক্রি করতে পারবেন না। আপনার টেম্পলেটগুলো যত অধিক মাত্রায় বিক্রি হবে, আয়ের পরিমাণও তত বেশি বাড়তে থাকবে। এভাবে একজন এক্সক্লুসিভ ব্যবহারকারীকে পর্যায়ক্রমে তার টেম্পলেটের মূল্যের ৭০% অর্থ প্রদান করা হয়। অন্যদিকে নন-এক্সক্লুসিভ ব্যবহারকারী হিসেবে সাইটে রেজিষ্ট্রেশন করলে আপনার তৈরিকৃত একই টেম্পলেট অন্য যেকোন সাইটে বিক্রি করতে পারবেন। তবে থিমফরেস্ট সাইটে আপনার টেম্পলেটের জন্য ২৫% অর্থ প্রদান করা হবে। তাই এক্সক্লুসিভ ব্যবহারকারী হিসেবে সাইটে রেজিষ্ট্রেশন করাই বেশি লাভজনক।

এই সাইটে PSD ফরমেটে টেম্পলেটগুলোর মূল্য ৫ থেকে ১০ ডলার পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। HTML এবং CSS সহকারে তৈরি করা ওয়েবসাইটের টেম্পলেটের জন্য সর্বোচ্চ ২০ ডলার নির্ধারণ করা হয়। অন্যদিকে Joomla এবং Wordpress এর টেম্পলেটগুলো সর্বোচ্চ ৪৫ ডলারে বিক্রি হয়ে থাকে। টেম্পলেটের মান এবং ক্রেতার চাহিদার উপর নির্ভর করে এক একটি টেম্পলেট সাধারণত ২০ থেকে ৩০ বার পর্যন্ত বিক্রি হয়ে থাকে। একই টেম্পলেট একশত বারের উপর বিক্রি হয়েছে এমন নজিরও নেহায়েত কম নয়। ফলে একই টেম্পলেট থেকে সময়ের সাথে সাথে আয় বাড়তে থাকে। ধরা যাক, আপনি একটি সাধারণ ওয়েবসাইটের টেম্পলেট এক্সক্লুসিভ ব্যবহারকারী হিসেবে তৈরি করেছেন, যার মূল্য ১০ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রত্যেকবার টেম্পলেটটি কোন ক্রেতা সাইট থেকে কিনলে আপনি পাবেন ৪ ডলার। সময়ের সাথে সাথে একটি টেম্পলেট থেকেই ৮০ থেকে ১০০ ডলার বা তার চেয়ে অধিক আয় করা সম্ভব।

অর্থ উত্তোলনের পদ্ধতি
এনভাটো মার্কেটপ্লেসের যেকোন সাইট থেকে আয় করা অর্থ তিনটি পদ্ধতিতে উত্তোলন করা যায়। এগুলো হচ্ছে Paypal, Moneybookers এবং ব্যাংক ট্রান্সফার। আমাদের দেশে যেহেতু পেপাল সাপোর্ট নেই তাই সাইটগুলো থেকে অন্য দুটি পদ্ধতির যেকোন একটি দিয়ে অর্থ উত্তোলন করা যায়। মানিবুকারস দিয়ে অর্থ উত্তোলন করতে সর্বনিম্ন মোট আয় ৫০ ডলার হতে হবে। আর ব্যাংক ট্রান্সফারের জন্য কমপক্ষে ৫০০ ডলার আয় করতে হবে।
অনেকেই হয়ত জানেন না যে, মানিবুকারস পেপালের মতই একটি সার্ভিস যা ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এটি দিয়ে একদিকে যেরকম বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং সাইট থেকে নিরাপদে এবং কম খরচে অর্থ সরাসরি আপনার ব্যাংক একাউন্টে নিয়ে আসতে পারবেন, তেমনি এর পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহার করে আপনার নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকে পণ্য ও সার্ভিস বিক্রি করতে পারবেন। আশা করা যায় বাংলাদেশীদের জন্য ই-কমার্স সাইট তৈরির যে প্রধান প্রতিবন্ধকতা ছিল তা মানিবুকারসের কল্যাণে বহুলাংশে দূর হবে।
 
টেম্পলেট আপলোড করার পদ্ধতি
থিমফরেস্ট সাইটে একটি টেম্পলেট গ্রহণযোগ্য হতে হলে ফাইলগুলোকে একটি নির্দিষ্ট ফরমেটে সাজাতে হবে এবং ডিজাইনের গুণগত মান যাতে সাইটের নির্দেশমত হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। টেম্পলেটের ধরন (PSD, HTML, Wordpress, Joomla ইত্যাদি) এর উপর ভিত্তি করে এর আলাদা ফরমেট ও নির্দেশাবলী রয়েছে। তাই আপলোড করার পূর্বে নির্দেশনাগুলো ভালভাবে দেখে নেয়া প্রয়োজন। সাধারণভাবে সকল ফাইলের ক্ষেত্রে যে কাজগুলো করতে হবে তা হচ্ছে,
  • ডিজাইনের ৮০x৮০ পিক্সেলের একটি থাম্বনেইল ছবি যুক্ত করতে হবে।
  • ডিজাইনের একটি প্রিভিউ ছবি যুক্ত করতে হবে যার সর্বোচ্চ প্রস্থ হবে ১২০০ পিক্সেল।
  • মূল কাজটিকে একটি Zip ফাইলে প্রয়োজনীয় সাহায্যকারী নির্দেশনা দিয়ে যুক্ত করতে হবে, যা পরিশেষে একজন ক্রেতা টেম্পলেটটি কেনার পর ডাউলোড করবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে Zip ফাইলে যুক্ত কাজটিকে যতটা সম্ভব পরিবর্তনযোগ্য করে তৈরি করতে হবে। উদাহরণসরূপ ফটোশপের লেয়ারগুলো যাতে আলাদা আলাদা থাকে এবং লেখাগুলো যাতে পরির্তনযোগ্য হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

কপিরাইট সংক্রান্ত বিষয়
এনভাটো মার্কেটপ্লেসে আপনি সেই সকল ফাইল বিক্রি করতে পারবেন যা আপনি নিজে তৈরি করেছেন। অন্য একটি ডিজাইনকে পরিবর্তন করে বা অন্য কোন সাইট থেকে ডিজাইন কিনে তা এই সাইটে বিক্রি করতে পারবেন না। এই মার্কেটপ্লেসে কোন ফাইল বিক্রি করার অর্থ হচ্ছে আপনি সম্মত হচ্ছেন যে, যারা আপনার ফাইলটি ক্রয় করবে তারা এর পূর্ণ কপিরাইট অর্জন করে নিজের কাজে ব্যবহার করতে পারবে। কোন কারণে কপিরাইট লংঙ্ঘিত হলে এনভাটো কর্তৃপক্ষ সাইটে আপনার একাউন্ট বন্ধ করে দিবে এবং অনেক ক্ষেত্রে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তাই সাইটের রেজিষ্ট্রেশন করার পূর্বে ভালভাবে তাদের কপিরাইট সংক্রান্ত নির্দেশগুলো পড়ে নিন।


অন্যান্য ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস সাইটেও ওয়েবসাইট ডিজাইন বা টেম্পলেট তৈরি করার অসংখ্য কাজ পাওয়া যায়। সেই সাইটগুলো থেকে এনভাটো-এর সাইটগুলোর মূল পার্থক্য হচ্ছে - অন্যান্য সাইটে একজন ক্রেতা তার ওয়েবসাইটের ডিজাইনের জন্য প্রজেক্ট তৈরি করে এবং বিড করার জন্য ফ্রিল্যান্সারদেরকে আবেদন জানায়। ফ্রিল্যান্সাররা সেই প্রজেক্টে বিড করে এবং পরিশেষে একজন ফ্রিল্যান্সার সেই কাজটি করার সুযোগ লাভ করে। যা নতুনদের জন্য প্রথম কাজ পাওয়াটা অনেকটা সময়সাপেক্ষ এবং অনেকক্ষেত্রে হতাশাজনক। অন্যদিকে এনভাটো মার্কেটপ্লেসে কোন ধরনের বিড করা এবং ক্রেতার অনুগ্রহের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয় না। রেজিষ্ট্রেশন করার সাথে সাথেই আপনি কাজ শুরু করে দিতে পারেন। আপনার টেম্পলেটটি সাইটে স্থান পাবার প্রথম দিন থেকেই বিক্রি শুরু হয়ে যাবে। তবে এখানে উল্লেখ্য যে, এই সাইটে উন্নতমানের ডিজাইনগুলোকেই প্রাধান্য দেয়া হয়। তাই দক্ষ ওয়েবসাইট ডিজাইনারের জন্য এটি একটি উপযুক্ত মার্কেটপ্লেস।

ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট টুলস

এই সংখ্যায় একজন ফ্রিল্যান্সার ওয়েবসাইট ডেভেলপারের প্রাত্যহিক কর্মক্ষেত্রে ব্যবহার্য সফটওয়্যার নিয়ে আলোচনা করা হল। ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট করতে অসংখ্য সাহায্যকারী সফটওয়্যার পাওয়া যায়। তারমধ্যে একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের কেবলমাত্র একটি সফটওয়্যার নিয়ে এখানে আলোচনা করা হল। উল্ল্যেখিত প্রত্যেকটি সফটওয়্যারই ওপেন সোর্স এবং ইন্টারনেট থেকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সংগ্রহ করা যায়।

অপারেটিং সিস্টেম: উবুন্টু
ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্টের জন্য লিনাক্স হচ্ছে আদর্শ একটি অপারেটিং সিস্টেম। এর নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ভাইরাসের প্রভাব থেকে মুক্ত, উন্নতমানের সফটওয়্যারের বিনামূল্যে প্রাপ্যতা ইত্যাদি বৈশিষ্ট্যের জন্য লিনাক্স অত্যন্ত জনপ্রিয়। ইন্টারনেটে বেশিরভাগ সার্ভার লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেম দিয়ে চালানো হয়। তাই নিজের কম্পিউটারে সার্ভারের আমেজ পেতে ওয়েব ডেভেলপাররা মূলত লিনাক্স ব্যবহার করে থাকে। লিনাক্সের রয়েছে শত শত সংস্করণ, যার মধ্যে উবুন্টু হচ্ছে বর্তমান সময়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি অপারেটিং সিস্টেম। বলা বাহুল্য, উবুন্টু ওয়েব ডেভেলপার ছাড়াও সাধারণ ব্যবহারকারীদের কাছে সমান জনপ্রিয়। অপারেটিং সিস্টেমটি www.ubuntu.com সাইট থেকে ডাউনলোড করে ইন্সটল করা যায়, অথবা shipit.ubuntu.com এ গিয়ে আবেদন করলে উবুন্টুর একটি সিডি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আবেদনকারীর ঠিকানায় পাঠিয়ে দেয়া হয়।

ওয়েবসাইট ব্রাউজার: ফায়ারফক্স
ওয়েবসাইট ডেভেলপারদের কাছে মজিলা ফায়ারফক্স (Firefox) ব্রাউজার প্রথম পছন্দ। দ্রুত এবং নিরাপদ ব্রাউজার হিসেবে ফায়রাফক্স দিনে দিনে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ফায়ারফক্সের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এটিকে ব্যবহারকারীর নিজের ইচ্ছে মত পরিবর্তন করা যায়। ফায়ারফক্সের ওয়েবসাইট থেকে Add-ons বা অতিরিক্ত সফটওয়্যার ইন্সটল করে এটিকে একটি শক্তিশালী ওয়েব ডেভেলপমেন্ট টুলে পরিণত করা যায়। যা দিয়ে একটি ওয়েবসাইটে HTML, CSS, Javascript এর বিভিন্ন সমস্যা খুব সহজে এবং সাথে সাথে সমাধান করা যায়। ওয়েব ডেভেলপমেন্টে সাহায্যকারী কয়েকটি উল্লেখযোগ্য Add-ons হচ্ছে - Firebug, Web Developer, FireFTP, Console², ColorZilla ইত্যাদি।

কোড এডিটর: জীনি
প্রোগ্রামিং করার জন্য জীনি (Geany) হচ্ছে খুবই ছোট এবং হালকা একটি IDE বা কোড এডিটর। এটি খুব দ্রুত কাজ করে, ফলে যে কোন গতির কম্পিউটারে জীনিকে সহজেই চালানো যায়। এর বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে - সিনট্যাক্স হাইলাইটিং অর্থাৎ কোডকে বিভিন্ন রঙের ফন্টে দেখার ব্যবস্থা , কোড ফোল্ডিং বা বড় কোডকে সংক্ষিপ্ত আকারে দেখা, অটো কমপ্লিশন বা বিভিন্ন ভেরিয়েবল সয়ংক্রিয়ভাবে লেখা, কোডকে কম্পাইল এবং এক্সিকিউট করার ব্যবস্থা, সাধারণ প্রজেক্ট ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি। www.geany.org সাইট থেকে লিনাক্স এবং উইন্ডোজ উভয় প্লাটফরমের জন্য জীনি ডাউনলোড করা যায়।

এফটিপি ক্লায়েন্ট: ফাইলজিলা
একটি ওয়েবসাইট তৈরি করার পর তা সার্ভারে অপলোড করতে প্রয়োজন একটি এফটিপি (FTP) ক্লায়েন্ট সফটওয়্যার। নেটে অনেক ধরনের এফটিপি ক্লায়েন্ট পাওয়া যায়, যার মধ্য Filezilla নিঃসন্দেহে একটি চমৎকার সফটওয়্যার। এর ইন্টারফেস বা বাহ্যিক চেহারা বেশ সহজ সরল এবং উন্নতমানের। ফাইলজিলার গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এটি সার্ভারের সাথে একসাথে সর্বোচ্চ ১০ টি সংযোগ স্থাপন করতে পারে, ফলে ফাইল আদান-প্রদান হয় দ্রুতগতিতে। উইন্ডোজ, ম্যাক ও লিনাক্সের চালু হতে সক্ষম এই সফটওয়্যারটি পাওয়া যাবে www.filezilla-project.org সাইট থেকে। উবুন্টু ব্যবহারকারীরা সাইন্যাপটিক প্যাকেজ ম্যানেজার সফটওয়্যার থেকে সরাসরি এটি ইন্সটল করতে পারবেন।

সাবভার্সন ক্লায়েন্ট: রেপিড এসভিএন
সাবভার্সন (Subversion) হচ্ছে একটি জনপ্রিয় ভার্সন কন্ট্রোল সিস্টেম। একই প্রজেক্টে যখন একাধিক প্রোগ্রামার কাজ করে তখন সাবভার্সন ব্যবহার করে কাজ করাটা অপরিহার্য হয়ে উঠে। এই পদ্ধতিতে মূল প্রজেক্টটি একটি সার্ভারে জমা থাকে। কাজ শুরু করতে প্রত্যেক প্রোগ্রামার সার্ভার থেকে প্রজেক্টের একটি কপি নিজের কম্পিউটারে নিয়ে আসে এবং কাজ শেষ হলে তা সার্ভারে জমা দেয়। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে একজনের কোড দিয়ে অন্য আরেকজনের কোড প্রতিস্থাপন হবার কোন সম্ভাবনা থাকে না। প্রয়োজনবোধে পূর্ববর্তী যে কোন ভার্সনের কোডকে ফেরত পাওয়া যায়। এই সাবভার্সনকে গ্রাফিক্যাল ইন্টারফেসের মাধ্যমে ব্যবহার করতে একটি চমৎকার ক্লায়েন্ট সফটওয়্যার হচ্ছে রেপিড এসভিএন (RapidSVN)। নতুনদের জন্য এটি একদিকে যে রকম সহজ ইন্টারফেস প্রদান করে, অন্যদিকে অভিজ্ঞ ব্যবহারকারীদেকে সাবভার্সনের সকল ফিচার ব্যবহারের সুযোগ করে দেয়। www.rapidsvn.org সাইট থেকে সকল অপারেটিং সিস্টেমের জন্য রেপিড এসভিএন ডাউনলোড করা যায়।

ডিফ ও মার্জ: মেল্ড
মেল্ড (Meld) হচ্ছে একটি ভিজুয়্যাল ডিফ ও মার্জ (Diff & Merge) সফটওয়্যার। অর্থাৎ এই সফটওয়্যার দিয়ে দুটি একই ধরনের ফাইলের পার্থক্যগুলো দেখা যায় এবং প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করা যায়। এটিকে রেপিড এসভিএন সফটওয়্যারের সাথেও সংযুক্ত করা যায়। একই ফাইলকে দুইজন প্রোগ্রামার পরিবর্তন করলে এই সফটওয়্যারটি খুব সহজেই প্রত্যেকের কোডকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করে দেয়। এই পদ্ধতিতে সাবভার্সনের কনফ্লিক্টকে সহজেই সমাধান করা যায়।

ভার্চুয়াল মেশিন: ভার্চুয়ালবক্স
লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেমে যারা কাজ করেন তাদের জন্য অত্যন্ত সাহায্যকারী একটি সফটওয়্যার হচ্ছে ভার্চুয়ালবক্স (VirtualBox) নামক এই ভার্চুয়াল মেশিন সফটওয়্যারটি। এর মাধ্যমে যে কোন অপারেটিং সিস্টেমকে লিনাক্সের মধ্যেই চালানো যায়। প্রায় সময় দেখা যায় একই ওয়েবসাইটকে ভিন্ন ভিন্ন ব্রাউজার ভিন্ন ভিন্ন ভাবে প্রদর্শন করে। তাই ওয়েবসাইট তৈরি করার পর তা সকল জনপ্রিয় ব্রাউজারে দেখে নেয়া অত্যন্ত জরুরী। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ফায়ারফক্স কোন রকমের ঝামেলা ছাড়াই একটি ওয়েবসাইটকে প্রদর্শন করে। কিন্তু ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারে CSS ও Javascript এর কোডকে সঠিকভাবে প্রদর্শন করতে বেশ ঝামেলা পোহাতে হয়। ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার যেহেতু লিনাক্সে চালু হয় না তাই ভার্চুয়ালবক্সের মাধ্যমে উইন্ডোজ ইন্সটল করে তাতে ওয়েবসাইট পরীক্ষা করে দেখা যায়।

ইমেইজ এডিটর: গিম্প
আমাদের দেশে ইমেইজ এডিটিং সফটওয়্যার বলতে সবাই ফটোশপকেই বোঝে। অথচ ফটোশপের বিকল্প অত্যন্ত শক্তিশালী সফটওয়্যার হচ্ছে গিম্প (Gimp)। এটি উবুন্টু লিনাক্সের সাথে ইন্সটলকৃত সফটওয়্যার হিসেবে পাওয়া যায়। উইন্ডোজ ব্যবহারকারীরা www.gimp.org সাইট থেকে বিনামূল্যে ডাউনলোড করতে পারবেন। একটি আধুনিক ইমেইজ এডিটিং সফটওয়্যারে যে সকল ফিচার থাকা প্রয়োজন তার সবই গিম্পে রয়েছে। ইন্টারনেটে গিম্পের অসংখ্য টিউটোরিয়াল রয়েছে যা দিয়ে একজন নতুন ব্যবহারকারী সহজেই শিখতে পারবে।

বিঃদ্রঃ - এই লেখাটি "মাসিক কম্পিউটার জগৎ" ম্যাগাজিনের জুন ২০০৯ সংখ্যায় প্রকাশিত।

সহজেই তৈরি করুন ইকমার্স ওয়েবসাইট

ইন্টারনেটের প্রসারের সাথে সাথে ইকমার্স (Ecommerce) ওয়েবসাইট তৈরির প্রবণতা প্রতিনিয়তই বাড়ছে। আমাদের দেশে যদিও অনলাইনে কেনাকাটার প্রচলন তেমনভাবে শুরু হয়নি তবে অদূর ভবিষ্যতে যে সবাই এতে অভ্যস্থ হয়ে পড়বেন তা সহজেই অনুমান করা যায়। ইউরোপ, আমেরিকায় ইকমার্স ওয়েবসাইট তৈরির চাহিদা কতটুকু তা ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসগুলোতে একটু লক্ষ্য করলেই উপলব্ধি করা যায়। প্রোগ্রামিং এর মাধ্যমে নিজে একটি পূর্ণাঙ্গ ইকমার্স সাইট তৈরি করা প্রকৃতপক্ষেই অত্যন্ত দুরহ কাজ। এর সাথে নানা সূক্ষ ও স্পর্শকাতর বিষয় জড়িত। আশার কথা হচ্ছে ওপেন সোর্সের কল্যাণে অত্যন্ত উন্নতমানের ইকমার্স সাইট বিনামূল্যে পাওয়া যায়, যা দিয়ে কোন প্রোগ্রামিং ছাড়াই একটি ইকমার্স সাইট দাঁড় করানো মাত্র কয়েক ঘন্টার কাজ। তবে বলা বাহুল্য সাইটের টেম্পলেট পরিবর্তন করতে এবং এতে বিশেষ কোন ফিচার যোগ করতে প্রোগ্রামিং এর প্রয়োজন রয়েছে। তারপরও সবধরনের ফিচারযুক্ত একটি পূর্ণাঙ্গ ইকমার্স সাইট তৈরি করতে কয়েক মাসের পরিবর্তে মাত্র কয়েক দিনেই ক্লায়েন্টকে তৈরি করে দেয়া যায়। ম্যাজেন্টো (Magento) সেরকমই একটি ইকমার্স সাইট তৈরির স্ক্রিপ্ট। এটি PHP এবং MySQL দিয়ে তৈরি করা হয়েছে।


ইদানিংকালে বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে খোঁজ নিলে দেখা যাবে বেশিরভাগ ইকমার্স সাইট তৈরি হচ্ছে ম্যাজেন্টো নির্ভর (www.magentocommerce.com)। বাস্তবিকপক্ষে ম্যাজেন্টো হচ্ছে সর্ববৃহৎ ওপেন সোর্স ইমার্স প্লাটফরম। এর অসংখ্য বৈশিষ্ট্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে -
  • প্রডাক্ট ব্রাউজিং: একটি আধুনিক ওয়েবসাইটে প্রডাক্ট ব্রাউজিং করার জন্য যে সকল ফিচার থাকে তার প্রায় সবকটিই রয়েছে এই সাইটে। পণ্যের ছবিকে জুম করে বড় আকারে দেখা যায়। আবার প্রতিটি পণ্যের জন্য একাধিক ছবি যুক্ত করার ব্যবস্থাও রয়েছে। আরো আছে প্রডাক্ট রিভিউ, রিলেটেড প্রডাক্ট, পণ্যের তথ্য ইমেইল করে বন্ধুকে জানানোর সুবিধা ইত্যাদি।
  • ক্যাটালগ ব্যবস্থাপনা: এতে রয়েছে পণ্যের ক্যাটালগ ব্যবস্থপনার শক্তিশালী ব্যবস্থা। তারমধ্যে অন্যতম হচ্ছে একসাথে সম্পূর্ণ ক্যাটালগকে এক্সপোর্ট/ইম্পোর্ট করা, অ্যাডমিন প্যানেল থেকে অনেকগুলো পণ্যকে একসাথে আপডেট করা, ডাউনলোড করা যায় এমন পণ্য যুক্ত করা ইত্যাদি। রয়েছে মিডিয়া ম্যানেজার যা দিয়ে পণ্যের ছবির আকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবর্তন এবং তাতে জলছাপ দেয়া যায়।
  • সাইট ব্যবস্থাপনা: একটি অনলাইন স্টোর (Store) দক্ষভাবে পরিচালনা করার জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা ম্যাজেন্টোতে রয়েছে। একই এডমিনিস্ট্রেশন প্যানেল থেকে একাধিক স্টোরকে পরিচালনা করা যায়। ম্যাজেন্টোর নতুন ভার্সন প্রকাশ হওয়া মাত্র তা একটা ক্লিকের মাধ্যমেই আপগ্রেড করা যায়। এতে একটি CMS বা কন্টেন্ট ম্যানেজম্যান্ট সিস্টেম যুক্ত রয়েছে যা দিয়ে তথ্যাবহুল পৃষ্ঠা অনায়াসেই তৈরি করা যায়। সাইটের ডিজাইনকে টেম্পলেটের সহায়তায় শতভাগ পরিবর্তন করা যায়।
  • এনালাইটিকস এবং রিপোর্ট: সাইটের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য এর সাথে বিভিন্ন ধরনের রিপোর্ট দেখার ব্যবস্থা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য হচ্ছে সেলস রিপোর্ট, ট্যাক্স রিপোর্ট, সর্বাধিক বিক্রি হওয়া পণ্যের রিপোর্ট, স্টক রিপোর্ট, কুপন রিপোর্ট ইত্যাদি। ম্যাজেন্টোর সাথে গুগল এনালাইটিকস যুক্ত আছে ফলে সাইটে আসা ব্যবহারকারীদের সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জানা যায়।
  • সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন: ম্যাজেন্টোকে শতভাগ সার্চ ইঞ্জিন অনুকুল করে তৈরি করা হয়েছে। এতে রয়েছে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাইট ম্যাপ তৈরি, প্রতিটি পণ্যের জন্য Meta-information যুক্ত করা ইত্যাদি আরো নানা সুবিধা।
  • পেমেন্ট: ম্যাজেন্টোর সাথে পেপাল, অ্যামাজন পেমেন্ট, গুগল চেকআউট, অথরাইজ.নেট এর মত প্রায় সকল বড় বড় পেমেন্ট গেটওয়ে যুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি ক্রেডিট কার্ড, চেক এবং মানি অর্ডারের ও ব্যবস্থা রয়েছে।
  • শিপিং: শিপিং বা পণ্য ক্রেতার কাছে পৌছে দেবার জন্য প্রায় সকল আন্তর্জাতিক পদ্ধতি এতে যুক্ত রয়েছে। যেগুলো দিয়ে রিয়েলটাইমে শিপিং এর মূল্য জানা যায়। এদের মধ্যে রয়েছে UPS, UPS XML, FedEx, USPS, DHL ইত্যাদি। রয়েছে অর্ডার ট্রেকিং, একই অর্ডারে একাধিক শিপিং যুক্ত করা, প্রতি অর্ডারে ফ্লাট শিপিং রেট, ফ্রি শিপিং, পণ্যের ওজন বা পণ্যের সংখ্যার উপর ভিত্তি করে আলাদা আলাদা রেটের ব্যবস্থা ইত্যাদি নানাবিধ সুবিধা।
  • মোবাইল কমার্স: ম্যাজেন্টো দিয়ে খুব সহজেই এম-কমার্স বা মোবাইল কমার্স চালু করা যায়। অর্থাৎ মোবাইল ফোনে ওয়েবসাইটটিতে ব্রাউজ করলে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে মোবাইল ফোনকে চিনতে পারে এবং সে অনুযায়ী সাইটের লেআউটকে মোবাইলের জন্য উপযুক্ত করে তোলে।

ম্যাজেন্টোর ফ্রি বা কমিউনিটি ভার্সনের পাশাপাশি প্রফেশনাল ও এন্টারপ্রাইজ নামক আরো দুটি সংস্করণ রয়েছে যেগুলোর জন্য বছরে যথাক্রমে ২,৯৯৫ ও ১২,৯৯০ ডলার ফি দিতে হয়। প্রকৃতপক্ষে ফ্রি ভার্সনের কল্যাণেই এটি এতটা জনপ্রিয় পেয়েছে। ম্যাজেন্টো শেখার জন্য সাইটে প্রচুর পরিমাণে টিউটোরিয়াল, ভিডিও এবং সাহায্যকারী আর্টিকেল পাওয়া যায়, যা থেকে একজন নতুন ব্যবহারকারী সহজেই এতে দক্ষ হয়ে উঠতে পারবে। Lenovo, 3M, Sumsung এর মত বড় বড় প্রতিষ্ঠান এটি ব্যবহার করছে দেখে এর জনপ্রিয়তা, দীর্ঘস্থায়িত্ব সহজেই অনুমান করা যায়।


লেখক - মোঃ জাকারিয়া চৌধুরী
বিঃদ্রঃ - এই লেখাটি "মাসিক কম্পিউটার জগৎ" ম্যাগাজিনের "সেপ্টেম্বর ২০১০" সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে।

গ্রাফিক রিভার

কয়েক মাস পূর্বে আপনাদেরকে পাঁচটি মার্কেটপ্লেস নিয়ে গঠিত এনভাটো (Envato) নামক একটি অস্ট্রেলিয়ান প্রতিষ্ঠানের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলাম। সেই লেখাতে ThemeForest.net নামক একটি মার্কেটপ্লেস নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছিলাম। যারা ওই লেখাটি পড়েননি তাদের জন্য বলছি, থিম ফরেস্ট মার্কেটপ্লেসে একজন ডিজাইনার ওয়েবসাইটের টেম্পলেট বা পূর্ণাঙ্গ ডিজাইন বিক্রি করে আয় করতে পারেন। যারা ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এ দক্ষ তাদের জন্য থিম ফরেস্ট হতে পারে একটি চমৎকার আয়ের ক্ষেত্র। কিন্তু ডিজাইনিং এ নতুনরা থিম ফরেস্ট সাইটে খুব একটি সুবিধা করতে পারবেন না। এই সাইটে অনেক বিচার বিবেচনা করে একটি ডিজাইনকে সাইটে প্রকাশের অনুমতি দেয়া হয়। তবে নতুনদের হতাশ হবার কিছু নেই, তাদের জন্য এনভাটোর রয়েছে আরেকটি চমৎকার মার্কেটপ্লেস - গ্রাফিক রিভার (www.GraphicRiver.net)। এই গ্রাফিক রিভারের আদ্যোপান্ত নিয়ে এবারের প্রতিবেদন।

গ্রাফিক রিভার সাইটটি দেখতে হুবহু থিম ফরেস্ট সাইটের মত। প্রকৃতপক্ষে এনভাটোর সকল মার্কেটপ্লেসের বাহ্যিক দিক এবং আভ্যন্তরীণ নিয়ম-কানুন প্রায় একই রকম। পাঁচ
টি মার্কেটপ্লেসের যে কোন একটিতে রেজিষ্ট্রেশন করে সবগুলো সাইটের মেম্বার হওয়া যায়। গ্রাফিক রিভার মার্কেটপ্লেসটিকে নতুনদের জন্য উপযোগী বলছি তার একটি উল্লেখযোগ্য কারণ রয়েছে। এখানে আপনাকে সাইটের সম্পূর্ণ টেম্পলেট ডিজাইন করতে হবে না, বরং একটি সাইটের বিভিন্ন গ্রাফিক্স আলাদা আলাদা ভাবে তৈরি করে বিক্রি করতে পারবেন। গ্রাফিক্স বলতে এখানে বোঝানো হচ্ছে - ওয়েবসাইটের ব্যাকগ্রাউন্ড, ব্যানার, বাটন, আইকন, রেজিষ্ট্রেশন ও লগইন ফরম, বিজনেস কার্ড, নিউজলেটার ইত্যাদি আরো বিভিন্ন ধরনের ডিজাইন।

একটি ডিজাইন তৈরি করে সাইটে জমা দেবার পর সাইটের কর্তৃপক্ষ ডিজাইনটি প্রথমে যাচাই বাছাই করে দেখে নেয় কাজটি মানসম্মত কিনা। ডিজাইনটি সাইটের নির্দেশমত তৈরি করা হলে, কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে ডিজাইনটির একটি দাম নির্ধারণ করে দেয়। ডিজাইনের ধরণ ও কাজের পরিমাণের উপর ভিত্তি করে দাম সর্বনিম্ন ১ ডলার থেকে শুরু করে ২০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। এরপর ডিজাইন বিক্রির ৪০% থেকে ৭০% অর্থ ডিজাইনারকে দেয়া হয়। নতুনদেরকে ৪০% অর্থ দেয়া হয় যা বিক্রি বাড়ার সাথে সাথে পর্যায়ক্রমে ৭০% এ উত্তীর্ণ হয়। প্রথম অবস্থায় দাম শুনতে কম মনে হলেও আসলে একটি ডিজাইন একাধিক ক্লায়েন্টের কাছে বিক্রির সুযোগ রয়েছে। তাই ১ ডলার মূল্যের একটি সামান্য ব্যানার যদি ৪০ থেকে ৫০ বার বিক্রি হয় তাহলে পরিশেষে মোট দাম নেহায়েত কম হয় না। এই ধরনের ছোটখাট কাজ করতে একজন নতুন গ্রাফিক্স ডিজাইনারের এক দিনের বেশি লাগার কথা নয়।
সাইটের নেভিগেশন বা ব্যবহার পদ্ধতি অত্যন্ত সহজ, সরল এবং পরিকল্পিতভাবে সাজানো। সাইটের বামদিকের কলামের শুরুতেই রয়েছে বিভিন্ন বিভাগ যাতে ক্লিক করে ওই বিভাগের সকল ডিজাইন দেখা ও কেনা যায়। এখানে মূল বিভাগগুলো হচ্ছে - Graphics, Design Templates, Texture, Vectors, Add-ons, Isolated Objects এবং Icons । Graphics বিভাগে রয়েছে ব্যাকগ্রাউন্ড, বাটন, ফরম, ব্যানার এবং একটি ওয়েবসাইটকে সাজানোর বিভিন্ন উপকরণ। Design Templates বিভাগে রয়েছে বিজনেস কার্ড, একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচয় বহণকারী স্টেশনারী উপকরণের টেম্পলেট, ফ্লাইয়ার, রেজ্যুমে, ব্রুশিয়র, নিউজলেটার ইত্যাদি। Texture বিভাগে পাওয়া যায় বিভিন্ন ধরনের বস্তু যেমন কাঠ, কাগজ, পাথর, প্রকৃতি, কনক্রিট, মেটাল, তরলবস্তু, ফেব্রিক ইত্যাদির ছবি। এই ছবিগুলো সাধারণত একটি ডিজাইন তৈরি করার সময় ব্যাকগ্রাউন্ড ইমেইজ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। Vector বিভাগে পাওয়া যায় কার্টুন ক্যারেক্টার ও বিভিন্ন বস্তুর ভেক্টর ছবি যা সাধারণত এডোব ইল্যাস্ট্রেটর দিয়ে তৈরি করা হয়। Add-ons বিভাগে রয়েছে ফটোশপ এবং ইল্যাস্ট্রেটরের বিভিন্ন এ্যাকশন, ব্রাশ, স্টাইল, শেপ, টেক্সচার এবং পেটার্নের কালেকশন। Isolated Objects বিভাগে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার্য বস্তুর গ্রাফিক্স পাওয়া যায়। সর্বশেষ Icon বিভাগে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের নজরকাড়া আইকনের সমাহার যা কম্পিউটারের ডেস্কটপ সাজাতে বা একটি ওয়েবসাইটের ডিজাইনকে আকর্ষণীয় করতে ব্যবহৃত হয়। মোট কথা, গ্রাফিক রিভার সাইটের এই অসংখ্য বিভাগের মধ্য থেকে নিজের ইচ্ছেমত যেকোন ধরনের ডিজাইন তৈরি করে বিক্রি করা যায়।

ওয়েবসাইটের বামদিকের কলামে বিভাগের পর আরও যেসকল উল্লেখযোগ্য অংশ রয়েছে সেগুলো হল - Author Program, Referral Program, Asset Library, Forums এবং Blog । ডিজাইনার হিসেবে কাজ শুরু করার পূর্বে Author Program অংশে সাইটের নিয়ম কানুন ভালভাবে জেনে নিতে হবে। তারপর একটি ছোটখাট কুইজে অংশগ্রহণ করে তাতে উত্তীর্ণ হতে হবে। কুইজের উত্তরগুলো "হ্যাঁ"
এবং "না" এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। নিয়মকানুন ভালভাবে পড়ে নিলে পাঁচ মিনিটের মধ্যেই সবগুলো প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেয়া সম্ভব। ডিজাইনার না হয়েও এই সাইট থেকে আয় করা সম্ভব, আর তা হচ্ছে Referral Program এর মাধ্যমে। এনভাটো মার্কেটপ্লেসের পাঁচটি সাইটের যে কোন একটিতে একজন নতুন ক্রেতাকে নিয়ে আসলে, ওই ক্রেতা সর্বপ্রথম যে পরিমাণ অর্থ সাইটে ডিপোজিট বা জমা করবে তার ৩০% আপনি পাবেন। কোন ডিজাইন কেনার পূর্বে এই সাইটে সর্বনিম্ন ২০ ডলার ডিপোজিট করতে হয়। অর্থাৎ একজন নতুন ক্রেতার মাধ্যমে আপনি সর্বনিম্ন ৬ ডলার থেকে ৩০ ডলার পর্যন্ত আয় করতে পারেন।

একটি ডিজাইন তৈরি করার সময় ডিজাইনে যদি কোন ধরনের ছবি সংযোগের প্রয়োজন হয় তাহলে Asset Library থেকে তা বিনামূল্যে সংগ্রহ করতে পারবেন। এই সাইটে কপিরাইটের নিয়মকানুন খুব কড়াকড়িভাবে মেনে চলা হয়। তাই অন্য যে কোন সাইট থেকে ছবি সংগ্রহ করে তা ডিজাইনের সাথে সরাসরি সংযোগ করতে পারবেন না। এর জন্য হয় ছবিটি কিনতে হবে অথবা ছবির মালিকের যথাযথ অনুমতি সাপেক্ষে ব্যব
হার করতে হবে। তবে সবচেয়ে ঝামেলাবিহীণ হচ্ছে সাইটির এ্যাসেট লাইব্রেরী থেকে ছবি সংগ্রহ করা।

সাইটের নিয়মকানুন এবং বিভিন্ন প্রয়োজনীয় তথ্য জানার জন্য Forums অংশে নিয়মিত ভিজিট করুন। আর এনভাটোর কর্তৃপক্ষ পরিচালিত ব্লগে পাবেন গ্রাফিক রিভার সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, বিভিন্ন প্রতিযোগীতার খবর এবং প্রতিমাসে একটি গ্রাফিক্স বিনামূল্যে ডাউনলোডের সুযোগ। গ্রাফি
ক রিভার সাইটে এই মূহুর্তে আইকন তৈরির একটি প্রতিযোগীতা চলছে যাতে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অধিকারীকে ২০০ ডলার করে পুরষ্কার দেয়া হবে।

ওয়েবসাইটে লগইন করার পর উপরের অংশে কয়েকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লিংক পাওয়া যায়, এগুলো হচ্ছে - Account, Bookmarks, Earning, Upload এবং Deposit । Account অংশটি আরো কয়েকটিভাগে বিভক্ত - Profile, Portfolio, Downloads, Earning, Statements এবং Edit । আপনার Profile এবং Portfolio অংশটি যেকোন মেম্বার দেখতে পারবে। Profile অংশে আপনি আপনার
নিজের সম্পর্কে বিস্তারিত লিখবেন যাতে ক্লায়েন্ট আপনার ডিজাইনের পদ্ধতি সম্পর্কে ভাল ধারণা পেতে পারে। আপনি যে সকল ডিজাইন তৈরি করবেন তা Portfolio অংশে প্রদর্শন করা হবে। আপনি যদি অন্য কারো ডিজাইন কিনে থাকেন তাহলে Download অংশ থেকে তা ডাউনলোড করতে পারবেন। Earning অংশে কোন মাসে কত আয় করলেন তার বিস্তারিত বর্ণনা দেখতে পাবেন এবং এই অংশ থেকে আয়কৃত অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন। Statement অংশে সাইট থেকে আপনার আয়/ব্যয়ের সম্পূর্ণ বিবরণ পাবেন।
ডিজাইন তৈরি করার নিয়ম:
গ্রাফিক রিভারের জন্য ডিজাইন তৈরি করার সময় অনেকগুলো বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। অন্যথায় কর্তৃপক্ষ ডিজাইনটি গ্রহণ করবে না। ফটোশপ বা ইল্যাস্ট্রেটরে কাজ করার সময় যেসব বিষয় খেয়াল রাখতে হবে তা হল -
  • ডিজাইনের প্রত্যেকটি উপাদানকে আলাদা আলাদা লেয়ারে তৈরি করুন।
  • দুই বা ততোধিক লেয়ারকে মার্জ বা এক লেয়ারে পরিণত করবেন না।
  • লেয়ারগুলোকে সুবিন্নস্ত রাখার জন্য গ্রুপ ব্যবহার করুন। ধরা যাক আপনি কয়েক ধরনের বাটনের একটি সেট তৈরি করছেন। এক্ষেত্রে একই ধরনের বাটনকে একই গ্রুপে রাখতে পারেন।
  • লেয়ারে বিভিন্ন ইফেক্ট ব্যবহার করলে তা কখনও রেস্টারাইজ করবেন না।
  • লেয়ার এবং গ্রুপের অর্থবহ নামকরণ করুন।
  • সকলের কম্পিউটারে থাকে এমন ফন্ট ব্যবহার করুন। যেমন - Arial, Tahoma, Times New Roman, Verdana ইত্যাদি। আর যদি অন্য কোন নতুন ফন্ট ব্যবহার করার প্রয়োজন পড়ে তাহলে ওই ফন্টটি কোন ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করা যাবে তা অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে। বিনামূল্যে ফন্ট সংগ্রহের জন্য www.dafont.com সাইটে ভিজিট করতে পারেন। বিনামূল্যে পাওয়া যায় ফন্টের ক্ষেত্রেও তার উৎস উল্লেখ করতে হবে।
  • কোন কারণে আপনার ডিজাইনটি যদি গ্রহণযোগ্য না হয়, তাহলে কর্তৃপক্ষ তার কারণ ইমেইলের মাধ্যমে আপনাকে জানাবে। এক্ষেত্রে সেই ভুলগুলো সংশোধন করে আবার ডিজাইনটি জমা দিতে পারবেন।
  • কোন ডিজাইন যদি সাইটের অন্য আরেকজনের ডিজাইনের সাথে মিলে যায় তাহলেও কর্তৃপক্ষ আপনার ডিজাইনটি গ্রহণ করবে না। তাই যে কোন ডিজাইন তৈরি করার সময় তাতে বৈচিত্র্য ও নতুনত্ব আনার চেষ্টা করুন।

ডিজাইন জমা দেবার নিয়ম:
ডিজাইন তৈরি করার পর তা জমা দিতে সাইটের উপরের অং
শ থেকে Upload নামক লিংকে ক্লিক করুন। ডিজাইন জমা দেবার পূর্বে কুইজে অবশ্যই উত্ত্বীর্ণ হতে হবে। এরপর Upload অংশে প্রত্যেকটি বিভাগের জন্য Instructions, New BETA Upload এবং Old Style Upload নামক তিন ধরনের বাটন দেখতে পাবেন। প্রথমে Instruction অংশটি ভালভাবে পড়ে নিন এবং New BETA Upload বাটনে ক্লিক করে আপলোড শুরু করুন। এই অংশে আপলোড করতে সমস্যা হলে Old Style Upload বাটনে ক্লিক করুন। Upload করার নিয়মগুলো হচ্ছে নিম্নরূপ -
  • প্রথমেই ডিজাইনটির একটি ভাল নাম এবং তার বর্ণনা লিখুন। ডিজাইনটিতে কোন ছবি বা ফন্ট ব্যবহার করলে তা যে ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে তার পূর্ণাঙ্গ লিংক এখানে দিন।
  • এবার ফাইল আপলোডের পালা। সর্বমোট ৪ ধরনের ফাইল আপলোড করতে হবে। এগুলো হল -
    1. Image Preview: ডিজাইনটির ৫৯০ পিক্সেল প্রস্থের একটি JPG ছবি এই অংশে দিতে হবে। এক্ষেত্রে যে কোন উচ্চতা হতে পারে।
    2. Thumbnail: ডিজাইনটির ৮০ x ৮০ পিক্সেলের একটি ছোট JPG ছবি দিতে হবে।
    3. High Res JPG: ডিজাইনটির মূল মাপের একটি উঁচু রেজুলেশনের JPG ছবি দিতে হবে। Vector এর ক্ষেত্রে প্রস্থ সর্বনিম্ন ১২০০ পিক্সেল হতে হবে।
    4. Main File(s): এরপর ফটোশপ বা ইল্যাস্ট্রেটরের সকল ফাইলকে ZIP করে দিতে হবে। কোন ক্রেতা ডিজাইনটি কেনার পর এই ফাইলটিকেই ডাউনলোড করবে।
  • Category: ডিজাইটনটি সুনির্দিষ্ট কোন বিভাগে অন্তর্ভূক্ত তা উল্লেখ করুন।
  • Image Resolution: ডিজাইনটিকে কত রেজুলেশনে তৈরি করেছেন তা উল্লেখ করুন।
  • Layered?: ডিজাইনে বিভিন্ন লেয়ার থাকলে Yes সিলেক্ট করুন।
  • Minimum Application Version: ফটোশপ বা ইল্যাস্ট্রেটরের কোন ভার্সন ব্যবহার করেছেন তা উল্লেখ করুন। গ্রহণযোগ্য ভার্সনগুলো হচ্ছে - CS, CS2, CS3 ও CS4 ।
  • Tag অংশে ডিজাইনটির যথাযথ ট্যাগ বা বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করুন যা সার্চ করার সময় কাজে লাগবে।
  • Comments for the Reviewer: এই অংশটি হচ্ছে সাইটের কর্তৃপক্ষকে মেসেজ দেবার জন্য। আপনার তৈরিকৃত ডিজাইন সম্পর্কে কোন কিছু বলার থাকলে তা এই অংশের মাধ্যমে তাদেরকে জানাতে পারবেন।


সবশেষে আপলোড বাটনে ক্লিক করে কাজটি জমা দিন। জমা দেবার পর আপনার ডিজাইনটি কর্তৃপক্ষের লিস্টে কততম স্থানে রয়েছে তা দেখতে পাবেন। আপলোড করার এক থেকে দুই দিনের মধ্যে ডিজাইনটি যাচাই বাছাই করা হবে। ডিজাইনটি গ্রহণ বা বাতিল হলে তা আপনাকে ইমেইলের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হবে।

আয়ের অর্থ উত্তোলনের জন্য এই সাইটে তিনটি পদ্ধতি রয়েছে - Paypal, Moneybookers এবং International Money Transfer (SWIFT) । নূন্যতম আয় ৫০ ডলার হলেই Paypal ও Moneybookers দিয়ে উত্তোলন করতে পারবেন। তৃতীয় পদ্ধতির ক্ষেত্রে নূন্যতম আয় হতে হবে ৫০০ ডলার।

গ্রাফিক রিভার তথা এনভাটো মার্কেটপ্লেসে নিয়মকানুন কড়াকড়িভাবে মেনে চলার কারণে এই সাইটগুলোতে সবসময় উন্নতমানের ডিজাইন পাওয়া যায়। আর হয়ত একারনেই ক্রেতা এবং বিক্রেতা মিলে মার্কেটপ্লেসে দুই লক্ষের উপর ব্যবহারকারী রয়েছে। একটি ভাল ডিজাইন তৈরি করতে পারলে তার ফলাফল আপনি সাথে সাথেই পাবেন। মার্কেটপ্লেসে এমন অনেক ডিজাইনার রয়েছেন যাদের ডিজাইন জমা দেবার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বিক্রি একশ ছাড়িয়ে যায়। আর ডিজাইন শেখার অন্যতম উপায় হচ্ছে অন্যের ডিজাইন পর্যবেক্ষন করা। অন্য আরেকজনের ডিজাইন যদি দেখে দেখে হুবহু তৈরি করতে পারেন তাহলে ধরে নিবেন দক্ষ ডিজাইনার হতে খুব বেশি দিন বাকি নেই। এভাবে চর্চা করতে থাকলে ডিজাইনের নতুন নতুন আইডিয়া স্বাভাবিকভাবেই পেয়ে যাবেন।

লেখক - মোঃ জাকারিয়া চৌধুরী

বিঃদ্রঃ - এই লেখাটি "মাসিক কম্পিউটার জগৎ" ম্যাগাজিনের "সেপ্টেম্বর ২০০৯" সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে।

ওয়েবসাইট ডিজাইনিং - পেশা হিসেবে অসাধারণ

আমি মূলত একজন ওয়েবসাইট প্রোগ্রামার। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ওয়েবসাইটের ডিজাইন বা টেম্পলেট, ক্লায়েন্টের কাছ থেকে পেয়ে থাকি। একটি টেম্পলেটের সাথে প্রোগ্রামিংকে যুক্ত করার জন্য প্রায় সময় ফটোশপের স্লাইসিং টুল নিয়ে ঘাটাঘাটি করতে হয়। সেই সুবাদে ফটোশপ একটু আধটু জানি। যেসব ক্লায়েন্টের কাছ থেকে টেম্পলেট পাওয়া যায় না তাদের সান্ত্বনা দেবার জন্য মাঝে মধ্যে নিজেই টেম্পলেট তৈরি করা শুরু করে দেই। এতে বেশিরভাগ সময় কাজ হয়। তবে সত্যি বলতে কি ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এর প্রতি আমার এক ধরনের ঝোঁক সবসময় রয়েছে। কাজের চাপে খুব একটা সময় দিতে পারি না, তবে সুযোগ পেলে বিভিন্ন ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এর সাইটে ঘোরাঘুরি করি।

একটা বিষয় আমি খেয়াল করে দেখলাম, আমাদের দেশে যারা ফ্রিল্যান্সিং করতে চান তাদের প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য থাকে ডাটা এন্ট্রির মাধ্যমে বেশি মাথা অল্প খাটিয়ে কম কষ্টে আয় করা। প্রকৃতপক্ষে একটি ডাটা এন্ট্রির কাজ পাওয়া যে কতটা কঠিন তা আমার অজানা নয়। এক একটি প্রজেক্টে ১০০ জনের উপর বিড করে। তার উপরে এই ধরনের কাজ খুবই বিরক্তিকর এবং কষ্টের তুলনায় আয় অত্যন্ত কম। সর্বোপরি এধরনের কাজে সৃজনশীলতার ছিঁটেফোটাও নেই।

আমি জানি, অনেকেই বলবেন সবাইতো আর প্রোগ্রামার হতে পারবেন না। একজন দক্ষ প্রোগ্রামার হবার জন্য কম্পিউটার সায়েন্স বা এই ধরনের বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ বা সময় অনেকেরই থাকবে না। তাহলে একজন নন-টেকনিকাল ব্যক্তি কি একজন প্রোগ্রামারের সমান বা তার চেয়ে বেশি আয় করতে পারবে না? আমি বলব, অবশ্যই পারবেন। এই বিষয়ে আমি আমার সাইটে বিভিন্ন লেখায় বিভিন্নভাবে উল্লেখ বলেছি। কিন্তু আমার মনে হয় ব্যাপারটা বেশিরভাগ নতুন ফ্রিল্যান্সাররাই খেয়াল করেন না, অথবা সেই বিষয়ে আগ্রহ পান না।

কোন সেই বিষয়? ওয়েবসাইট ডিজাইনিং। তবে শুরুতেই বলে নেই, এই পেশায় প্রথম অবস্থায় যথেষ্ঠ শ্রম দিতে হবে এবং অবশ্যই নতুন কিছু উদ্ভাবন করার ক্ষমতা থাকতে হবে। এই দুই ক্ষমতা থাকলে আমি নিঃসন্দেহে বলতে পারি ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এ আপনি ভাল করতে পারবেন। ঘরে বসে সম্পূর্ণ নিজের চেষ্টাতেই ডিজাইনিং শেখা সম্ভব। Photoshop Tutorial লিখে গুগলে সার্চ দিলে হাজারটা ওয়েবসাইট পাবেন। ধৈর্য্য ধরে শিখতে পারলে কখনও কাজের অভাব হবে না।

ধরা যাক আপনি কয়েক মাস চেষ্টার ফলে একজন দক্ষ ডিজাইনার হতে পেরেছেন। এখন আপনার ডিজাইন কিনবে কে? এর উত্তর হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস সাইটগুলো। কষ্ট করে ওইসব সাইটে বিড করা শুরু করে দিন। আশা করি খুব শীঘ্রি আপনি বিড জিততে পারবেন।

আর যদি বিড করে কাজ না পেয়ে হতাশ হয়ে থাকেন, তাহলেও নিরাশ হবেন না। আজ আমি আপনাদেরকে একটি ওয়েবসাইটের সাথে পরিচয় করিয়ে দিব যেখানে কোন বিড করতে হয় না। যেখানে ক্লায়েন্টের কোন চাহিদা নেই। আপনি সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছে মত কাজ করে যাবেন আর অনবরত আয় হতে থাকবে। সাইটি হচ্ছে - GraphicRiver.net



মজার ব্যাপার হচ্ছে, এই সাইটে আপনাকে সম্পূর্ণ ওয়েবসাইটের টেম্পলেট তৈরি করতে হবে না। একটি ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য প্রয়োজনীয় গ্রাফিক্স যেমন বাটন, ব্যানার, বিভিন্ন ধরনের টেবিল, ব্যাকগ্রাউন্ড ইত্যাদি তৈরি করে জমা দিতে পারবেন। ডিজাইন জমা দেবার পর ওয়েবসাইটের কর্তৃপক্ষ যাচাই করে দেখবে আপনার ডিজাইনটি মানসম্মত অথবা অন্য কারো ডিজাইন অনুকরণ করে তৈরি করা হয়েছে কিনা। যাচাইয়ে উত্তীর্ণ হলে তারাই ডিজাইনটির একটি মূল্য নির্ধারণ করে দিবে যা ১ ডলার থেকে ১০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। এর মধ্যে প্রথম অবস্থায় ৪০% অর্থ ডিজাইনারকে দেয়া হবে।

মূল্য শুনে মন খারাপ করবেন না, আসল কথা এখনও বলা হয় নি। এই সাইটি একটি অনলাইন শপ বা ইকমার্স সাইটের মত। অর্থাৎ একটি ডিজাইন একের অধিক ক্লায়েন্ট কিনতে পারে। এক একটি ভাল ডিজাইন গড়ে ৫০ বার বা তার চেয়ে বিক্রি হয়। আর সময়ের সাথে বিক্রি বাড়তেই থাকে। ধরা যাক, আপনার তৈরিকৃত একটি ব্যানারের মূল্য ১ ডলার নির্ধারণ করা হল অর্থাৎ প্রতিবার বিক্রি হলে আপনি পাবেন ০.৪০ ডলার। একটি ব্যানার তৈরি করতে ১ দিনের বেশি লাগার কথা নয়। তাহলে মাসে যদি ৫০ বার ব্যানারটি বিক্রি হয় তাহলে ওই ১ দিনের কাজের জন্য আপনি মাসে আয় করছেন ২০ ডলার। এভাবে প্রতিদিন যদি অন্তত একটি ভাল ডিজাইন তৈরি করতে পারেন তাহলে বিষয়টা দাড়াচ্ছে ৩০x২০=৬০০ ডলার। আমি কি বেশি বলে ফেললাম !!!

ঠিক আছে, তাহলে আমি নিজেই তা পরীক্ষা করে দেখি। চলুন দেখা যাক আমি কিছু বিক্রি করতে পারি কি না। আজকে (১৭ আগস্ট ২০০৯ তারিখে) আমি একটি ডিজাইন "গ্রাফিক রিভার" সাইটে জমা দিয়েছি। এটি একটি মূল্য তালিকা প্রদর্শন করার টেবিল। তৈরি করতে আমার মত অদক্ষ ডিজাইনারের বিকেল থেকে রাত অবধি সময় লেগেছে। সাইটের কর্তৃপক্ষ ডিজাইনটির জন্য ১ ডলার মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে। আমার প্রথম ডিজাইনটি যে তারা গ্রহণ করেছে তাতেই আমি খুশি। নিচের লিংক থেকে আমার কাজটি দেখতে পাবেন -
http://graphicriver.net/item/web-pricing-table/54601?ref=zchowdhury

চলুন দেখা যাক, ডিজাইনটি শেষ পর্যন্ত কতবার বিক্রি হয়।

৯৯ ডিজাইনস - ফ্রিল্যান্সারদের জন্য প্রতিযোগিতা

ইন্টারনেটে ফ্রিল্যান্সারদের জন্য যে সকল মার্কেটপ্লেস রয়েছে তাদের মধ্যে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী একটি সাইট হচ্ছে www.99designs.com। এই সাইটটি শুধুমাত্র ডিজাইনারদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে। যে সকল বিষয়ের উপর এই সাইটে কাজ পাওয়া যায় তা হচ্ছে - ওয়েবসাইট ডিজাইন, লোগো ডিজাইন, বাটন ও আইকন ডিজাইন, টি-শার্ট ডিজাইন, ব্যানার ডিজাইন ইত্যাদি। অন্যান্য সাইট থেকে এই সাইটের পার্থক্য হচ্ছে এখানে প্রত্যেকটি ডিজাইন সম্পন্ন করার জন্য ক্রেতা বা ক্লায়েন্ট একটি উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। প্রতিযোগিতায় যে কেউ অংশগ্রহণ করতে পারে এবং ক্লায়েন্টের নির্দেশ অনুযায়ী ডিজাইনাররা ডিজাইন তৈরি করে। সবশেষে ক্লায়েন্ট একটি ডিজাইনকে বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করে এবং পুরষ্কার হিসেবে ডিজাইনারকে পূর্ব নির্ধারিত অর্থ প্রদান করে।

এই ওয়েবসাইটে প্রত্যেকটি কাজকে কনটেস্ট (contest) বা প্রতিযোগিতা বলা হয়। ক্লায়েন্টকে এই সাইটে কনটেস্ট হোল্ডার বা আয়োজক এবং অংশগ্রহণকারী ফ্রিল্যান্সারদেরকে ডিজাইনার হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এই সাইটে ৩০ হাজারের উপর ডিজাইনার রেজিষ্ট্রেশন করেছে এবং এই মূহুর্তে তিনশতটির উপর প্রতিযোগিতা রয়েছে যেগুলোর সর্বমোট মূল্য হচ্ছে ১ লক্ষ ডলারেরও বেশী। প্রতিযোগিতার পুরষ্কার হিসেবে প্রধানত অর্থ প্রদান করা হয়, তবে আয়োজক ইচ্ছে করলে সাথে অন্য কোন সামগ্রী দিতে পারে।

যেভাবে সাইটটি কাজ করে

১) ডিজাইনের নির্দেশনা তৈরি:
প্রথম ধাপে প্রতিযোগিতার আয়োজক তার চাহিদা অনুযায়ী ডিজাইনের একটি নির্দেশনা তৈরি করে যাকে বলা হয় ডিজাইন ব্রিফ (Design Brief)। ডিজাইনাররা এই ব্রিফের উপর ভিত্তি করে তাদের ডিজাইন তৈরি করে থাকে। প্রতিযোগিতাটির আয়োজন করার জন্য এসময় ক্লায়েন্টকে ৩৯ ডলার অর্থ সাইটকে প্রদান করতে হয়। তবে এই সাইট থেকে ফ্রিল্যান্সারদের কাছ থেকে কোন ফি নেয়া হয় না।

২) বাজেট নির্ধারণ:
দ্বিতীয় ধাপে আয়োজক পুরষ্কারের পরিমাণ নির্ধারণ করে। পুরষ্কারের মূল্য সর্বনিম্ন ১০০ ডলার থেকে শুরু করে এক থেকে দুই হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে। এটি সম্পূর্ণ আয়োজকের বাজেটের উপর নির্ভর করে।

৩) প্রতিযোগিতা শুরু:
প্রত্যেকটি প্রতিযোগিতা সর্বনিম্ন ১ দিন থেকে সর্বোচ্চ ৭ দিন পর্যন্ত চলতে পারে। এই সময়ের মধ্যে ডিজাইনাররা প্রজেক্টের ব্রিফের উপর নির্ভর করে ডিজাইন তৈরি করে এবং তৈরিকৃত ডিজাইনের একটি ছবি ওয়েবসাইটে জমা করে। এই ছবিগুলো যে কেউ দেখতে পারে। এতে একজনের ডিজাইন দেখে তার থেকে ভাল আরেকটি ডিজাইন তৈরি করার মানসিকতা ডিজাইনারদের মধ্য কাজ করে। যা পরিশেষে আয়োজকের জন্য সুফল বয়ে আনে। প্রতিযোগিতা চলাকালীন সময়ে আয়োজক জমা দেয়া প্রত্যেকটি ডিজাইনকে একটি রেটিং এবং একটি মন্তব্য প্রদান করে। কোন ডিজাইন ভাল না হলে তা ঠিক করার পরামর্শও আয়োজক দিয়ে থাকে। প্রত্যেক ডিজাইনার একের অধিক ডিজাইন জমা দিতে পারে।

৪) বিজয়ী নির্ধারণ:
রেটিং এবং মন্তব্য প্রদানের মাধ্যমে আয়োজক ডিজাইনারদের সাথে যোগাযোগ করে এবং তার কাঙ্খিত ডিজাইন তৈরি করিয়ে নেয়। প্রতিযোগিতা শেষ হবার পর আয়োজক একজনকে বিজয়ী হিসেবে নির্ধারণ করে এবং তার পুরষ্কার প্রদান করে। সবশেষে ডিজাইনার তার তৈরিকৃত মূল ডিজাইনের ফাইল আয়োজককে দিয়ে দেয়।

প্রতিযোগিতার প্রকারভেদ:

99designs.com সাইটে পুরষ্কার প্রদানের বিভিন্ন পদ্ধতির উপর ভিত্তি করে নিম্নলিখিত ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয় -
১) প্রিপেইড প্রতিযোগিতা:
এটি হচ্ছে সাইটটির স্ট্যান্ডার্ড একটি প্রতিযোগিতা যাতে আয়োজক পুরষ্কারের মূল্য প্রতিযোগিতা শুরুর পূর্বেই 99designs.com সাইটে জমা রাখে। প্রতিযোগিতা শেষে সাইটটি বিজয়ী ডিজাইনারকে অর্থ প্রদান করে থাকে। এ ধরনের প্রতিযোগিতায় আয়োজক কোন ডিজাইন পছন্দ না হলে প্রতিযোগিতা বাতিল করে অর্থ ফেরত নিতে যেতে পারে। প্রিপেইড প্রতিযোগিতার সময় হচ্ছে ৭ দিন। প্রতিযোগিতা শেষে আরো ৭ দিনের মধ্যে আয়োজক একজন ডিজাইনারকে বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করতে পারে অথবা কোন ডিজাইন পছন্দ না হলে প্রতিযোগিতা বাতিল করতে পারে।

২) গ্যারান্টেড প্রতিযোগিতা:
গ্যারান্টেড প্রতিযোগিতা ডিজাইনারদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ একটি পদ্ধতি যা বেশিরভাগ ডিজাইনারকে আকৃষ্ট করে। ফলে আয়োজক সর্বোৎকৃষ্টমানের ডিজাইন পেতে পারে। পুরষ্কার প্রদানের পদ্ধতি প্রিপেইড প্রতিযোগিতার মতই, তবে এই পদ্ধতিতে প্রতিযোগিতা শেষে আয়োজক নিশ্চিতভাবে একজন ডিজাইনারকে বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করে এবং তার পুরষ্কারের মূল্য প্রদান করে। গ্যারান্টেড প্রতিযোগিতায় আয়োজক প্রতিযোগিতা বাতিল বা সাইটে জমা দেয়া অর্থ ফেরত নিতে পারে না।

৩) পে-অন-উইন প্রতিযোগিতা:
এটি সাইটের প্রথম দিককার প্রতিযোগিতার পদ্ধতি ছিল, যা এখন আর নেই। এই পদ্ধতিতে প্রতিযোগিতার আয়োজক সাইটে পুরষ্কারের অর্থ জমা না রেখে সরাসরি বিজয়ী ডিজাইনারকে প্রদান করত। অন্যদিকে বর্তমানে এই কাজটি 99designs.com সাইটটি বিভিন্ন ধরনের পেমেন্ট পদ্ধতির মাধ্যমে করে থাকে।

৪) ফাস্ট ট্র্যাক প্রতিযোগিতা:
এই ধরনের প্রতিযোগিতা একটি সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য আয়োজন করা হয়, সাধারনত ১ থেকে ৩ দিন। সাধারণত এই ধরনের প্রতিযোগিতার পুরষ্কারের মূল্য অন্যান্য ধরনের প্রতিযোগিতা থেকে বেশি হয়ে থাকে।

৫) প্রাইভেট প্রতিযোগিতা:
প্রাইভেট প্রতিযোগিতাগুলো প্রিপেইড প্রতিযোগিতার মতই, তবে শুধুমাত্র ওয়েবসাইটে লগইন করার পর দেখা যায়। এই ধরনের প্রতিযোগিতাকে সাইটের সার্চে অন্তর্ভুক্ত করা হয় না এবং এগুলো সার্চ ইঞ্জিন থেকে লুকানো থাকে।

পুরষ্কারের অর্থ উত্তোলনের পদ্ধতি:

প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী ডিজাইনার তার তৈরিকৃত ডিজাইনারের মূল ফাইল সাইটে আপলোড করে দেয়। আয়োজক কাজটি গ্রহণ করার সাথে সাথে পুরষ্কারের সম্পূর্ণ অর্থ ডিজাইনারের একাউন্টে জমা হয়ে যায়। মোট আয় ৫০ ডলারের অধিক হলেই ওয়েবসাইটটি থেকে ৪টি পদ্ধতির যে কোন একটি ব্যবহার করে অর্থ উত্তোলন করা যায়। পদ্ধতিগুলো হচ্ছে - পেপাল, অল্টারপে, মানিবুকারস এবং ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন। বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সারা শেষের দুটি পদ্ধতির মাধ্যমে সহজেই অর্থ উত্তোলন করতে পারবে।


সৃজনশীল এবং দক্ষ ডিজাইনারদের জন্য 99designs.com সাইটটি ইন্টারনেট থেকে আয় করার একটি চমৎকার মার্কেটপ্লেস। এই সাইটে যেহেতু একজনের ডিজাইন অন্য আরেকজন দেখতে পারে ফলে নতুন ডিজাইনারা এই পদ্ধতিতে ডিজাইনের নতুন নতুন আইডিয়া শিখতে পারবে। একটি ডিজাইন জমা দেয়ার সাথে সাথেই যেহেতু ক্লায়েন্টের মতামত ও রেটিং পাওয়া যায়, তাতে ডিজাইনার জানতে পারে তার ডিজাইন কতটকু গ্রহণযোগ্য এবং সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে পারে। এই সাইটের অন্য আরেকটি ভাল দিক হচ্ছে এখানে অন্যান্য সাইট থেকে তুলনামূলকভাবে বেশি মূল্যের কাজ পাওয়া যায়। উদাহরণসরূপ এই সাইটে একটি ছোট্ট লোগো ডিজাইন করার জন্য প্রায়ই ৫০০ ডলারের গ্যারান্টেড পুরষ্কার প্রদান করা হয়, যা সত্যি অভাবনীয়।

Wednesday, 4 December 2013

নিজের ওয়েব সাইটের আকর্ষনীয় ড্রপ ডাউন মেনু তৈরি করি শুধুমাত্র HTML আর CSS দিয়ে

আমি আগের একটি টিউটোরিয়ালে দেখিয়ে ছিলাম কিভাবে একটা আকর্ষনীয় নেভিগেশন বার তৈরি করা যায়। আজ আমরা কিভাবে শুধুমাত্র HTML আর CSS দিয়ে আকর্ষনীয় ড্রপ ডাউন মেনু তৈরি করা যায় দেখব।
আমরা একটু দেখে নেই আসলে আমরা কি তৈরি করতে যাচ্ছি।

প্রথম ধাপ:

প্রথমে Desktop এ একটা Filder নিয়ে নাম দেই Dropdown । Dropdown Filder এর মধ্যে আবার একটা Filder নিয়ে নাম দেই images । এখন নিচের ov.gif image দুটো copy করে images Filder এর মধ্যে রাখি ।
দ্বিতীয় ধাপ:
এখন আমরা Dropdown Filder এর মধ্যে একটা নোটপ্যাড open করে নিচের code টুকু লিখি।

<!DOCTYPE html PUBLIC "-//W3C//DTD XHTML 1.0 Transitional//EN"

"http://www.w3.org/TR/xhtml1/DTD/xhtml1-transitional.dtd">

<html xmlns="http://www.w3.org/1999/xhtml" xml:lang="en" lang="en">

<head>

<title> CSS Drop Down Menu</title>

</head>

<body>

<div id="navcont">

<div id="nav">

<ul>

<li class="borderleft"><a href="#">HOME</a></li>

<li class="borderleft"><a href="#">ABOUT US</a></li>

<li class="borderleft"><a href="#">TUTORIAL</a>

<ul>

<li class="top"><a href="#">HTML</a></li>

<li><a href="#">CSS</a></li>

<li><a href="#">PHP/Mysql</a></li>

</ul>

</li>

<li class="borderleft"><a href="#">ELECTRONICS</a>

<ul>

<li><a href="#">BASIC</a></li>

<li class="top"><a href="#">ANALOG </a></li>

<li><a href="#">DIGITAL</a></li>

<li><a href="#">MICROCONTROLLER</a></li>

<li><a href="#">PROJECT</a></li>

</ul>

</li>

<li class="borderleft"><a href="#">TEMPLATE</a>

<ul>

<li class="top"><a href="#">WORDPRESS</a></li>

<li><a href="#">JOOMLA</a></li>

<li><a href="#">HTML</a></li>

<li><a href="#">BLOGGER</a></li>

<li><a href="#">DRUPAL</a></li>

</ul>

</li>

<li class="borderleft"><a href="#">TECHNOLOGY</a></li>

<li class="borderleft"><a href="#">EDUCATION</a></li>

<li class="borderleft"><a href="#">NEWS</a></li>

<li class="borderleft"><a href="#">CONTACT</a></li>

</ul>

</div>

</div>

</body>

</html>
এখন file মেনু থেকে Save as এ ক্লিক করে File name: index.html , Save as type : All files, দিয়ে save করি । save করা index.html ফাইলটি Internet explorer দিয়ে open করলে নিচের মত দেখাবে।

তৃতীয় ধাপ:

অমরা এখন index.html এর head ট্যাগের মধ্যে css যুক্ত করব। এ জন্য আমরা head ট্যাগের মধ্যে নিচের code টুকু লিখি।

<style type="text/css">

*{margin:0; padding: 0;}

body { background:#444;}

#navcont { margin-top:20px;

width: 100%;}

#nav { background:url(images/un.gif) repeat-x ;

font-family: Verdana;

position:relative;

width:910px;

height:36px;

font-size:14px;

color:#000;

margin: 0 auto;

font-weight:bold}

#nav ul {list-style-type:none; }

#nav ul li {float:left;

position: relative;}

#nav ul li a {padding:10px; display:block;

text-decoration:none;

text-align:center;

color:#000;}

#nav ul li a:hover {background: #12aeef url(images/ov.gif) repeat-x; color: #999;}

#nav ul li ul {display: none;}

#nav ul li:hover ul {display: block;

position: absolute;

top:35px;

min-width:190px;

left:0;}

#nav ul li:hover ul li a {display:block;

background: #6CC ;

color:#000;

width: 160px;

text-align: center;

border-bottom: 1px solid #f2f2f2; border-right: none;

border:1px solid #333}

#nav ul li:hover ul li a:hover { background:#6dc7ec url(images/ov.gif);

color:#000; margin:1px auto 1px 15px;

border:1px solid #000}

</style>
তাহলে আমাদের সম্পূর্ণ code হচ্ছে ,

<!DOCTYPE html PUBLIC "-//W3C//DTD XHTML 1.0 Transitional//EN"

"http://www.w3.org/TR/xhtml1/DTD/xhtml1-transitional.dtd">

<html xmlns="http://www.w3.org/1999/xhtml" xml:lang="en" lang="en">

<head>

<title> CSS Drop Down Menu</title>

<style type="text/css">

*{margin:0; padding: 0;}

body { background:#444;}

#navcont { margin-top:20px;

width: 100%;}

#nav { background:url(images/un.gif) repeat-x ;

font-family: Verdana,;

position:relative;

width:910px;

height:36px;

font-size:14px;

color:#000;

margin: 0 auto;

font-weight:bold}

#nav ul {list-style-type:none; }

#nav ul li {float:left;

position: relative;}

#nav ul li a {padding:10px; display:block;

text-decoration:none;

text-align:center;

color:#000;}

#nav ul li a:hover {background: #12aeef url(images/ov.gif) repeat-x; color: #999;}

#nav ul li ul {display: none;}

#nav ul li:hover ul {display: block;

position: absolute;

top:35px;

min-width:190px;

left:0;}

#nav ul li:hover ul li a {display:block;

background: #6CC ;

color:#000;

width: 160px;

text-align: center;

border-bottom: 1px solid #f2f2f2; border-right: none;

border:1px solid #333}

#nav ul li:hover ul li a:hover { background:#6dc7ec url(images/ov.gif);

color:#000; margin:1px auto 1px 15px;

border:1px solid #000}

</style>

</head>

<body>

<div id="navcont">

<div id="nav">

<ul>

<li class="borderleft"><a href="#">HOME</a></li>

<li class="borderleft"><a href="#">ABOUT US</a></li>

<li class="borderleft"><a href="#">TUTORIAL</a>

<ul>

<li class="top"><a href="#">HTML</a></li>

<li><a href="#">CSS</a></li>

<li><a href="#">PHP/Mysql</a></li>

</ul>

</li>

<li class="borderleft"><a href="#">ELECTRONICS</a>

<ul>

<li><a href="#">BASIC</a></li>

<li class="top"><a href="#">ANALOG </a></li>

<li><a href="#">DIGITAL</a></li>

<li><a href="#">MICROCONTROLLER</a></li>

<li><a href="#">PROJECT</a></li>

</ul>

</li>

<li class="borderleft"><a href="#">TEMPLATE</a>

<ul>

<li class="top"><a href="#">WORDPRESS</a></li>

<li><a href="#">JOOMLA</a></li>

<li><a href="#">HTML</a></li>

<li><a href="#">BLOGGER</a></li>

<li><a href="#">DRUPAL</a></li>

</ul>

</li>

<li class="borderleft"><a href="#">TECHNOLOGY</a></li>

<li class="borderleft"><a href="#">EDUCATION</a></li>

<li class="borderleft"><a href="#">NEWS</a></li>

<li class="borderleft"><a href="#">CONTACT</a></li>

</ul>

</div>

</div>

</body>

</html>
এখন save করে index.html ফাইলটি Internet explorer দিয়ে open করলে আমরা পূর্ণাঙ্গ ড্রপ ডাউন মেনুটি আমরা দেখতে পাব।
*** আমরা যেখানে # চিহ্ন ব্যবহার করেছি সেখানে আমরা প্রয়োজনীয় পেজের url লিখে লিংক যুক্ত করলে ড্রপ ডাউন মেনুটি সঠিকভাবে কাজ করবে।

শেষে দুটি কথা:

ভাল বা মন্দ যাই হোক না কেন সকলের মতামতের প্রত্যাশায় রইলাম।