ডিজিটাল নেটওয়ার্ক অ্যাক্সেস-ডিএনএ

World best Online education and Money earning informer Network from Bangladesh.

Online education and Money eran Tutorial

Easy access,Get money eran sucess.Online money earn informer site.

Entertainment for All

All in One service in our site . Just access and go,enjoy,share with others .

All type of Android and iOS Mobile Apps

Enjoyale,smooth,easy,free Android,Windows Mobile Apps download now.

Dedicate Customer care 24/7-365

Exparince Customer care.Customer servie first,Any time, any where,any question, just ask me +880-1918-388-377

Showing posts with label জীবনের গল্প. Show all posts
Showing posts with label জীবনের গল্প. Show all posts

Wednesday, 4 December 2013

[এক ছোট বোনের স্ট্যাটাস থেকে... সবাই অবশ্যই পড়ুন... ]

কলেজ থেকে ফেরার
পথে বাসে উঠে দেখি লোকজন ভরে গেছে।
পিছনের দিকে পঞ্চাষর্ধো এক লোকের
পাশে বসে পড়লাম। লোকটা খুবই বিনয়ী,
বসা মাত্র আমাকে বলে, তুমি চাইলে জানালার
কাছে বসতে পারো। বললাম, না আঙ্কেল অসুবিধা নেই...
থ্যাংকস। কিছুদুর যেতেই বাস থেমে গেলো,
যাত্রাবাড়ির চিরপরিচিত জ্যাম! হঠাৎ
পাশের লোকটা আমাকে বললো- মা, তোমার
কাছে পানি আছে? একটু মুখে দিবো। আমার
সাথে পানি না থাকায় বললাম- স্যরি আঙ্কেল,
আমার কাছে পানি নেই। লোকটা উদাস নয়নে আকাশের
দিকে তাকালো। একটুপর নিজের খেয়ালেই
আমাকে বলা শুরু
করলো, তোমার মতো আমারও একটা মেয়ে আছে,
হলে থাকে। আমি থাকি লালবাগ, ওখানে আমার
একটা মুদি'র দোকান আছে। মেয়েটার মা নেই,
বাড়িতে (গ্রামে) আমার ছোট
ছেলেটা থাকে তার চাচার সাথে। আমি প্রতিদিনই
আমার মেয়ের সাথে কথা বলি,
মেয়ে আমাকে জানায়
সে ক্লাসে আছে অথবা লাইব্রেরীতে আছে নইলে পড়ছে।
আমি খুব খুশী হই, এত খুশী হই
যে চোখে পানি চলে আসে।
মেয়েটাকে আমি অনেক পড়ালেখা করাতে চাই, যতটুকু
সামর্থ্য আছে তা দিয়েই। মেয়ে'র কোন
আশাই আমি অপূর্ন রাখিনি, যা চেয়েছে তাই
দেয়ার চেষ্টা করেছি। গতকাল বিকেল
থেকে মেয়েটার ফোন বন্ধ, তাই আমি হলের এক
টিচারকে ফোন দেই, সেই টিচার খোজখবর
নিয়ে দেখে আমার মেয়ে ৫ দিন হলো হলে নেই,
সে নাকি বাড়ি যাবার জন্য ছুটি নিয়েছে।
কথাটা শোনামাত্র আমি টিচারকে বললাম,
আমার ভুল হয়েছে স্যার, আমি বাড়িতে ফোন
না করেই আপনাকে ফোন করেছি,
আমি সত্যি দুঃখিত। তারপর লোকটি আমার মুখের
দিকে তাকিয়ে বলল, আমার
মেয়ে বাড়িতে যায়নি, কালও ওর সাথে আমার
কথা হয়েছে, সে নাকি ক্লাসে ছিলো।
গতরাতে আমি মোটেও ঘুমাতে পরিনি, অনেক
খোজখবর নেবার পর মেয়ের বান্ধবী'র
কাছে জানতে পারলাম আমার
মেয়েটা নাকি এখন কক্সবাজার আছে। এক
ছেলের সাথে ৭ দিনের জন্য বেড়াতে গিয়েছে।
তোমাকে কথাগুলো কেন বলছি জানি না মা,
তুমি কি বিরক্ত হচ্ছো? আমি মাথা নেড়ে না বললাম।
মাথাটা কাজ করছে না, কাউকে কিছু জানাতেও
পারছি না, মেয়ের সন্মান চলে যাবে। তাই
তোমাকে বলে একটু হালকা হলাম, কিছু
মনে করোনা মা। এই কথা বলে লোকটা আবার
আকাশের দিকে তাকালো। আমি স্পষ্ট দেখলাম
লোকটা কাদঁছে, তার শরীর
কেপে কেপে উঠছে! আমি মলিন চোখে এক
বাবা'র কান্না দেখলাম, মেয়ে'র সন্মান
চলে যাবার ভয়ে একজোড়া স্বপ্নমাখা চোখের
কান্না দেখলাম। বাবা'র বুকের চিৎকার আর
আর্তনাদ যেন শুনতে পেলাম আমি, আর
সাথে সাথে আম্মু'র মুখটা ভেসে উঠলো...
আমি জীবনের অসংখ্যবারের মতো আবারও
মনে মনে আম্মু'কে প্রমিজ করলাম এমন কিছু
করবো না যেন তারা কষ্ট পায়।

collected...

প্রতিটা সন্তানের চোখে পানি চলে আসবে --

এই গল্পটা পড়ার পর প্রতিটা সন্তানের
চোখে পানি চলে আসবে --
"গতকালও মা ফোন করেননি। আজ সকাল
৮টার দিকে ফোন করেছি, মা রিসিভ
করেননি।
আমার মা অক্ষরজ্ঞানহীন। এক ধর্মান্ধ
সমাজে বড় হয়েছেন।আমার নানা গ্রাম্য
পাঠশালার পন্ডিত হওয়া স্বত্তেও মায়ের
বিদ্যার দৌড় মক্তবের
গন্ডি পেরিয়ে স্কুলের বারান্দায়
পৌছতে পারেনি।সমাজ প্রতিবন্ধিকতায়
মায়ের আর বাংলা পড়াটা হয়ে উঠেনি।
মা রাঁধতে পারেন। কুরান পড়তে পারেন।
তাই ছিল মায়ের জন্য যথেষ্ট।
মা যেখানে বাংলায় নামটি পর্যন্ত
লিখতে পারেননা সেখানে ইংরেজি পারাটা প্
মা পারেন আরবি।
কিন্তু মোবাইলে কি আর আরবি হরফ
আছে? মা জানেন না কিভাবে কল
করতে হয়। মা যাতে সহজে আমাকে কল
দিতে পারেন সেজন্য মায়ের
মোবাইলে স্পীড ডায়াল করে দিয়ে বললাম
"মা এই যে দেখা যায় 'দুই' এখানে টিপ
দিয়ে ধরে রাখলে আমার নাম্বারে কল
যাবে। মায়ের হাসিমাখা উত্তর, 'দুই'
কোনটা এইটা কি আমি চিনিরে বাপ।
ব্লেড দিয়ে কেটেকুটে '২'
বাটনটাকে চিহ্নত করে দিলাম। তারপর
থেকে মা আমাকে কল দিতেন।
কথা বলতাম। প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে।
আমার ৪বছর বয়সের আইনস্টাইন
ভাগনা মায়ের
মোবাইলটাকে নিয়ে গবেষনা করতে গিয়ে সে
করে ফেলে। তাই মা আমাকে আর কল
দিতে পারছেন না।
আজ সকাল আটটায় যখন মাকে ফোন
করি মা তখন ফোনটা রিসিভ
করতে পারেননি।
দৌড়ে এসে ফোনটা ধরতে না ধরতেই
রিংটা কেটে গেল। আমিও
কি জানি কি ভেবে আর রিডায়াল করিনি।
একটু আগে মাকে আবার ফোন দিলাম।
রিংটা ডুকা মাত্রই মা ফোনটা রিসিভ
করলেন।সেই সকাল আটটা থেকে এখন
পর্যন্ত মা ফোনটার পাশে বসেই ছিলেন।
কবে জানি খোকা ফোন দেয়,
যদি আমাকে না পায়...
মন্তব্য : মায়ের ভালোবাসা কোন
মন্তব্য হয়না।"

collected...

ll পড়ার জন্য অনুরোধ রইল ll একটি সত্য ঘটনা যা এক গুরুত্বপূর্ণ চিন্তার

জন্ম দেয়ঃ
এক গরীব স্বামী-স্ত্রী একটি ছোট
গ্রামে বাস করতেন। তাদের একমাত্র
ছেলে ছাড়া অন্য কোন সন্তান ছিল না।
তারা তাকে সবচেয়ে সেরা শিক্ষায়
শিক্ষিত করে তোলেন।
ছেলে গ্রামের কাছের একটি শহর
হতে ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে।
ভাগ্যবশত, সে এক
ধনী মেয়েকে বিয়ে করে।

প্রথমদিকে, ছেলে আর তার বউ তার
বাবা মায়ের সাথেই গ্রামে থাকতো।
শীঘ্রই
ছেলের বউ গ্রাম্য
পরিবেশে হাপিয়ে ওঠে আর
তার স্বামীকে তার মা-
বাবাকে ছেড়ে শহরে থাকতে।
কিছুদিন পরেই ছেলে পত্রিকায়
বিদেশে একটি চাকুরির বিজ্ঞাপন
দেখতে পায়। সে সেই
চাকুরিটা পেয়ে যায়, আর তার
বউকে নিয়ে বিদেশে চলে যায়।
নিয়মিত সে মা-
বাবাকে টাকা পাঠাতে থাকে।

কিন্তু একসময়, সে টাকা পাঠানো বন্ধ
করে দেয়।
আর তার মা- বাবা যে জীবিত
সে কথা ভুলেই যায়।
প্রতি বছর সে হাজ্জ করতে থাকে। একবার
হাজ্জ করে ফিরে এসে সে স্বপ্নে দেখে
কে যেন তাকে বলছে , ‘তোমার হাজ্জ
কবুল হয় নি।’
একদিন সে তার এই সব ঘটনা এক
মুত্তক্বী ‘আলেমের নিকট খুলে বলল।
‘আলেম তাকে তার
দেশে ফিরে গিয়ে মা-বাবার
সাথে দেখা করতে পরামর্শ দেয়।
সে তার দেশে ফিরে গেল, সে তার
গ্রামের সীমানায় প্রবেশ
করল। কিন্তু সে দেখল, সব কিছুই কেমন
যেন বদলে গেছে। সে তার
বাড়ি খুজে পেল না। সে এক ছোট
ছেলেকে তার বাড়ির অবস্থানের
কিছু বর্ণনা দিল। ছোট
ছেলেটি তাকে একটি বাড়ির
দিকে ইশারা করে বললঃ “এই
বাড়িতে এক
অন্ধ বৃদ্ধা মহিলা থাকেন যার
স্বামী কয়েক মাস আগেই
মারা যান। তার একমাত্র ছেলে ছিল
যে কিনা বহু বছর
আগে বিদেশে চলে যায়, আর ফেরেনি।
কত
বড় দূর্ভাগ্যবান লোক!”

ছেলে তার বাড়িতে প্রবেশ করে দেখল
যে তার
মা বিছানায় শুয়ে আছেন।
সে নিঃশব্দে প্রবেশ
করল যাতে তার মা জেগে না ওঠে।
সে শুনলো তার মা কি যেন
একা একা চুপি চুপি বলছেন। সে তার
আরো কাছে আসলো যাতে তার
কথা শুনতে পারে।

সে শুনলো তার মা বলছেন, “হে আল্লাহ!
আমি এখন
অনেক বৃদ্ধ আর অন্ধ। আমার স্বামী ও
মারা গেছেন। এখন
আমাকে কবরে নামানোর মত
কোন মাহরাম পুরুষ নেই। তাই
দয়া করে আমার
ছেলেকে আমার শেষ ইচ্ছাটা পূরণের জন্য
আমার কাছে পাঠিয়ে দাও।”
এখানেই গল্পের শেষ আর এখানেই সেই
মা এর দু’আ আল্লাহ কবুল করলেন।

। মাকে কেউ কষ্ট দিওনা।

*** LIKE & SHARE MUST ***

অবশ্যই পড়ুন !!!

আমি জ্বরের জন্য কিনলাম
নাপা আর সে কিনল
প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট...!
মেয়েটা কোন
ক্লাশে পড়ে...!
সেভেন - এইট, বড় জোড় নাইন
হতে পারে এর
বেশী হবার কোন কারন নেই ।
মায়া কাড়া চেহারা আর
ঢাকার
বিখ্যাত এক
স্কুলের ড্রেস গায়ে চাপানো ।
ফার্মেসীর
সামনে দাঁড়িয়ে সিগারেটের
শেষ টান দিচ্ছিলাম।
ভার্সিটি পড়ুয়া হবে এমন
একটা ছেলে সহ
মেয়েটি দাঁড়িয়ে আছে ফার্মেসী
সামনে ,
ইতস্তত এদিক ওদিক
তাকাচ্ছে আর নিচু গলায়
কথা বলছে । মেয়েটা ব্যাগ
খুলে ছেলেটার
হাতে টাকা ধরিয়ে দিয়ে বাইর
দাঁড়িয়ে থাকল, আমি এমন
জায়গায়
দাঁড়ানো চোখে না পড়ে উপায়
নেই ।
সিগারেট শেষ হওয়ায় আমিও
ফার্মেসীতে ঢুকে পড়লাম,
ছেলেটি সেখানে এদিক ওদিক
তাকাচ্ছে ।
বিশেষ জিনিসগুলো সব সামনেই
ঝোলানো থাকে ।
প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট
দেখিয়ে ছেলেটা দাম
জানতে চাইল , তারপর বলল
একটা দিন। নিয়ে বের
হয়ে গেল , মেয়েটাকে দেয়ায়
সে ব্যাগে ঢুকিয়ে রাখল।
পুরোটা সময় আমি মনে হয়
ভাষা হারিয়ে ফেলছিলাম,
এ কি দেখছি আমি !!! এই টুকুন
মেয়ে,
যাকে বাসায় এখনও হয়ত
সকালের
নাস্তা আর
রাতের খাবার
মা না খাইলে দিলে সে খেতে চ
এই মেয়ে এই
প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট
নিয়ে বাসায় যাচ্ছে !!!!
সে কি জানে সে কি করে বসেছে
যদি পজেটিভ
হয় তাহলে !!!!
যে কাজের জন্য এই
প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট
সে কিনল ওটায় বা কতটুকু
বোঝে সে...?
সম্বিত পেলাম দোকানদারের
কথায়,
কি লাগবে আপনার ।
দুটো ওরস্যালাইন
কিনে নিয়ে বাইরে আসলাম,
আরেকটা সিগারেট ধরালাম ।
শরীর
পানি শূন্য
হয়ে যাচ্ছে ব্যাপারনা,
চিন্তা চেতনায়ও
শূন্যতা বোধ
করলাম.... বড্ড
বেশী পিছিয়ে পড়ছি এই
সমাজের
সাথে তাল মেলাতে গিয়ে....
তথাকথিত আধুনিকতা,
ধর্মনিরপেক্ষতা এবং ফ্রী কালচ
কোথায়
নিয়ে যাচ্ছে আমাদের ?
মিডিয়া এই
অবক্ষয়গুলি উঠিয়ে ধরেনা ।
তাই আমরাও
এগুলি খেয়াল করিনা । লক্ষ
করে দেখবেন, মানুষ
তার আই লেভেলের সবকিছুই
আগে দেখে এবং খেয়াল করে ।
সাইডের
ইনসিডেন্ট ১০% ও
চোখে পডেনা ।
ধীরে ধীরে আমরা ডুবে যাচ্ছি
অতল গহীনে । জাগবো কবে...?
সব শেষ
হবার পর...?

****** LIKE & SHARE ******

Thursday, 7 November 2013

আশফাক সাহেব অনেক বড় মাপের ইঞ্জিনিয়ার

আশফাক সাহেব অনেক বড় মাপের ইঞ্জিনিয়ার। ঢাকাতে নিজের বাড়ি গাড়ি সব ই আছে। সমাজের উচ্চশ্রেণীর লোক বলতে যা বুঝায়।
আশফাক সাহেবের মেজাজ আজ খারাপ। তার গাড়িটা নষ্ট হয়ে গেছে। রিক্সার জন্য আধা ঘন্টার উপরে দাড়িয়ে আছে। কিন্তু রাস্তায় একটা রিক্সাও নেই। তার অফিস থেকে তার বাসা খুব বেশি দুরে নয়। হেটে গেলে ২০মিনিটের বেশি লাগার কথা নয়। অনেক দিন হাটা হয় না রাস্তার মুক্ত বাতাস খাওয়া হয় না। তাই আজ আশফাক সাহেব হেটেই বাড়ি ফেরার সিদ্ধান্ত নিলেন।চিরচেনা ঢাকার রাস্তা আজ তার কাছে খুব অপরিচিত লাগছে। সব কিছুই অচেনা লাগছে খুব। গাড়ির ভিতর থেকে এগুলো বুঝা যায় না। গাড়ির ভিতরে বসলে মনে অন্য রকম ফিলিংস আসে। রাস্তার দিকে তাকাতে ইচ্ছে হয় না। রাস্তায় হাটা মানুষগুলো কে খুব নগন্য মনে হয়।অথচ আজ থেকে ৭বছর আগে আশফাক সাহেব রাস্তার লোক ছিলেন। টিউশনি করে মাসের প্রথমে রিক্সা দিয়ে গেলেও মাসের শেষে হেটেই মেসে ফিরতেন। রাস্তা থেকে ভাপা পিঠা কিনে খেতেন। আশফাক সাহেব দেখলেন রাস্তায় ভাপা পিঠা বিক্রি হচ্ছে তার আজ অনেক দিন পর রাস্তার ভাপা পিঠা খেতে ইচ্ছা হচ্ছে।

আশফাক সাহেব ১০টাকা দিয়ে বেশি গুরের একটি ভাপা পিঠা নিয়েছেন রাস্তার পাশে দাড়িয়ে খাচ্ছেন।হঠাৎ তার চোখ রাস্তায় শুয়ে থাকা মা ও ছেলের দিকে চোখ গেলো। ছেলেটির বয়স ৫-৬ হবে। মায়ের সাথে ফুতপাতের কোনায় শুয়ে আছে।আশফাক সাহেবের পিঠার দিকে আর খেয়াল নেই তিনি গভীর মনোযোগ দিয়ে মা ও ছেলের কথোপকথন শুনতে থাকলেন।
-কিরে বাবা আজ কি কি পড়লি?
-আপু আজ আমাদের আপেল বানান করা শিখাইছে। আর আমাদের সবাইবাই কে আপেল খাওয়াইছে।
-আপেল খেতে মজা লাগসে বাবা?
-হুম মা। আপেল অনেক মজা। আমার আবার আপেল খাইতে মন চাইতাছে।
-তাই বাবা। মায়ের কাছে তো টেকা নাই। টেকা পাইলে তোরে আপেল খাওয়ামুনে হে।
-আইচ্ছা মা। আমি বড় হইলে প্রতি দিন আপেল কিন্যা খামু হে। তুমি আর আমি সারা দিন আপেল খামু।
-ওরে আমার বাবা টা রে। তুই বড় হয়ে কি হবি বাবা?
-ইঞ্জিনিয়াল হমু।
-ইঞ্জিনিয়াল আবার কিরে বাপ।
-আমি কইতে পারি না। আপু কইছে আপু নাকি ইঞ্জিনিয়াল হইতেছে। আমিও আপুর মতন হমু।
-আইচ্ছা হইস বাবা।
-আমি ইঞ্জিনিয়াল হইলে তোমারে প্রত্যেকদিন আপেল খাওয়ামু আমাগো আর রাস্তায় থাকোন লাগবো না।
-ওরে আমার বাপধন আয় আমার বুকে আয়। ঘুমা।
আশফাক সাহেব সব গুলো কথা মন দিয়ে শুনেছে। তার পিঠা ঠান্ডা হয়ে গেছে। আর পিঠা খেতে ইচ্ছা হচ্ছে না। আশফাক সাহেবের তার মায়ের কথা মনে পড়ে গেলো। কাজের ব্যাস্ততায় ৫দিন হয়ে গেছে মায়ের সাথে কথা হয় নি। ১৫দিনের উপরে হয়ে গেছে দেখতে যাওয়া হয় নি। হঠাত করে আশফাক সাহেবের নিজের ছোট বেলার কথা মনে পরে গেলো তারা রাস্তায় থাকতো না। তাদের ঘর ছিলো।
-বাবা আশফাক ঘুমা বাবা।
-হুম মা ঘুমামু। মা আমার প্যান্ট ছিড়া গেছে। একটা নতুন প্যান্ট কিন্যা দিবা?
-তোর বাবায় বেতন পাইলে কিন্যা দিমু নে। আর কাইল প্যান্ট শিলায় দিমু নে বাপ। এখন ঘুমা।
-আইচ্ছা মা। তয় আমি বড় হইলে ইঞ্জিনিয়ার হমু তখন আর শিলাইয়া প্যান্ট পিনতাম না। আর তোমার ও ছিড়া শাড়ি পরনন লাগতো না।
-ইশ। আইচ্ছা বাপ।
-হুম তোমারে প্রত্যেক দিন একটা কইরা শাড়ি কিন্যা দিমু।
-হইছে এখন ঘুমা অনেক রাইত হইছে।

আশফাক সাহেব রাস্তা দিয়ে হটছে আর কান্না করছে। কান্না করার মতো যথেষ্ট কারন আছে। সে কথা রাখেনি। তার মাকে সে বৃদ্ধা আশ্রমে রেখে এসেছেন। এ কি ভুল করেছেন তিনি। সমাজের উচুস্তরে থেকে তার অতিত ভুলে গেলেন কিভাবে তিনি। কিভাবে মায়ের কাছে মুখ দেখাবেন। আজ তার খুব কষ্ট হচ্ছে। মায়ের বুকে শুয়ে ঘুমাতে ইচ্ছে করছে খুব। …

আশফাক সাহেব রাস্তা দিয়ে হাটছেন। তার চোখ গেলো রাস্তায় সিগনালে আটকে থাকে গাড়ির দিকে। তিনি স্পষ্ট দেখতে পেলেন একজন লোক তার দিকে ঘৃণার দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন। হয়তো ওই লোকটা আশফাক সাহেব কে রাস্তার লোক ভাবছেন তাই এতো নগন্য দৃষ্টি। কিন্তু তাতে আশফাক সাহেবের কিছু আসে যায় না। তিনি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন তিনি আর কোন দিন গাড়িতে উঠবেন না। ওই যন্ত্রটা খুব খারাপ। মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করে ফেলে। শিকড় থেকে নিয়ে যায় অনেক দুরে !!

লিখাঃ সমালোচক মশাই

এক গ্রামে এক অন্ধ বালিকা বাসকরত

এক গ্রামে এক অন্ধ বালিকা বাসকরত । রুপ-লাবণ্যে সে ছিল অপূর্ব ।

সেই গ্রামের এক যুবক মুগ্ধ হয়েছিল ওই অন্ধ বালিকার সৌন্দর্য্যে ।

রোজ বিকেলে মেয়েটি যখন ফুলের বাগানে সুবাস নিতে আসতো , যুবকটি তখন তাকে কবিতা শোনাত ।
নিজের লেখা কবিতা ।
কবিতার মাধ্যমে বোঝাতে চেষ্টা করত মেয়েটিকে তার ভাললাগার কথা ,
ভালবাসার কথা ।

কোন এক স্নিগ্ধ বিকেলে যুবকটি মেয়েটিকে বিয়ের প্রস্তাব দিল ।

মেয়েটি রাজি হলো না , বলল "যে দিন আমি দেখতে পাব সেই দিন তোমাকে বিয়ে করব । "

বেশ কিছুদিন পর কেউ একজন মেয়েটিকে দুটি চোখ দান করল ।

মেয়েটি চোখের আলো ফিরে পেল । তখন যুবকটি তার দাবি নিয়ে ফিরে এল

কিন্তু ......মেয়েটি দেখতে পেল যুবকটি অন্ধ !
মেয়েটি যুবকের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল এবং
বলল "আমি কোন অন্ধ ব্যক্তিকে বিয়ে করব না ।"

যুবকটি প্রচন্ড কষ্ট পেল এতে । চলে যেতে যেতে মুচকি হাসল এবং
বলল ''take care of my eyes''

moral -যে সত্যিকার ভালোবাসে সেই কখনো তার ভালোবাসার মানুষটিকে কষ্ট দেবেনা প্রয়োজনে নিরবে আড়ালে নিজেই কষ্ট পাবে

গত বছরের একটি ঘটনা।

গত বছরের একটি ঘটনা।
মতিঝিল থেকে ফার্মগেট যাবো একটা জরুরী কাজে । বাসে উঠে মোবাইলে ইন্টারনেটে গুতাগুতি করতেছিলাম তো একটু সামনে গিয়ে এক ভদ্রলোক উঠে আমার পাশে বসলো । খেয়াল করলাম সে কিছুক্ষণ পর পর আমার দিকে তাকাচ্ছে কিংবা আমার মোবাইলের দিকে।

মেজাজতো পুরাই খারাপ হতে লাগলো । সহ্য করতে না পেরে মোবাইলটা প্যান্টে ঢুকিয়ে জানালার বাইরে তাকালাম তাও ট্যারা চোখ দিয়ে দেখলাম সে তবুও আমার দিকে তাকাচ্ছে।

একটুপর জিজ্ঞাস করেই বসলো তোমার নাম কি বাবা ?
জি,আমি চয়ন।
কোথায় যাবা?
ফার্মগেট। আপনি ?
উত্তরা।
আমার ছেলের নাম রুমেল। ও দেখতে ঠিক তোমার মত ছিল।
আমি : ছিল মানে?
সে : ও গতবছর মারা গেছে।
আমি : কিভাবে ?
সে : আর বলোনা বাবা ( আবেগ আপ্লুত ) । আমার আদরের একটি মাত্র ছেলে ছিল। ৩ বছর আগে ভর্তি করে দিয়েছিলাম ঢাকায় । অনেক সপ্ন ছিল ওকে নিয়ে এই গরীব বাবার। কিন্তু ছেলেটা ঢাকায় এসে নষ্ট হয়ে গেল। কলেজের সব খারাপ ছেলেদের পাল্লায় পড়েছিল। সারাদিন ঘুরতো,রাতে-বিরাতে খারাপজায়গায় যেত,নেশা করতো।

আমি দেখলাম লোকটির চোখে পানির বন্যা গড়িয়ে পড়ছে।কথা আটকিয়ে যাচ্ছে। আমি বললাম আপনি জানলেন কি করে?
সে : ওর বন্ধুরা বলেছে। গত বছর ইন্টার পরীক্ষায় ও ফেল করে। ওর সেই খারাপ ছেলেবন্ধুরা প্রাইভেট ভার্সিটিতে ভর্তি হয়ে গেলেও। ও আমাকে বলেনি কিছু। আত্নহত্যা করে।

আমি আর এই ব্যাপারে আর এগোলাম না।ওনার অবস্থা অনেক খারাপ হয়ে গেছে। কিন্তু সে এবার কেদেই বলে উঠলো,ওর মা আর আগের মত নেই। পাগল হয়ে গেছে। সারাদিন ওর নাম জপ করে। আমি হার্টের রুগী বাবা। এতকিছু সামলাতে পারিনা। এত কষ্ট আর সহ্য হয়না। কলেজ কতৃপক্ষের কাছ থেকে পরে জানতে পারি ওর রেজাল্ট ভুল আসছিল। ১ বিষয়ে ওর ফেল আসছিল। কিন্তু ও পাশ করছিল ঐ বিষয়ে । ওর কেন এই মা-বাবার কথা মনে পরেনি। আমরাকি ওর পর ছিলাম। শুধুতো রেজাল্ট সব না। মা-বাবার কাছে তারসন্তানই সবচেয়ে বড়।

আমি আর কথা না বাড়িয়ে বললাম, আংকেল উত্তরা এসে গেছে ।
ওহ আচ্ছা বাবা আমি এত ভালো চিনিনা ঢাকা । আচ্ছা বাবা আমি যাই,তুমি আমার ছেলের মত,তাই তোমাকে সব বললাম। কিছু মনে করোনা।
তিনি নেমে গেলেন।

বাস একটু এগোতে আমার নিজের মনে পরলো আমিতো ফার্মগেট কত আগে পার হয়ে গেছি। আসলে তার কথার আবেগ আরমায়ায় আমি নিজেই হারায় গেছিলাম। তড়িঘড়ি করে নামলাম।নামিয়ে তাও লোকটিকে দেখলাম আশে-পাশে। নাহ খুজে পেলাম না।
পরে আবার ফার্মগেটের বাসে উঠলাম।এবার ভাবলাম। এমন মা-বাবা হয়তো আরো অনেক আছে । যারা মনের দিক থেকে মরে গেলেও শারীরিক দিক থেকে হয়তো বেচে আছে। কিন্তু তবু তারা নিজের সন্তানকে অসীম ভালোবেসে যায় কোন কিছু পাবার আশায় কিংবা নিরাশায় । দুনিয়ার সবাই সবাইকেছেড়ে চলে যায় । কিন্তু সুখে-দুখে এই মা-বাবাই আমাদের পাশে থাকে । আর ক্ষেত্রবিশেষে অন্যরা সব দুধের মাছি ।

কলেজ থেকে রিকশা করে বাড়ি ফিরছিলাম...

কলেজ থেকে রিকশা করে বাড়ি ফিরছিলাম, হাতে খাতা। মন মেজাজ বেশ ফুরফুরে ছিলো। রিকশাওয়ালা বেশ কিছুক্ষণ চুপ থেকে হঠাৎ আমাকে প্রশ্ন করা শুরু করলো
- কোথায় পড় তুমি?
- বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজে
- কিসে?
- ইন্টারমিডিয়েট সেকেন্ড ইয়ার।
- সায়েন্স না আর্টস?
- সায়েন্স।
- তা এস এস সি তে জিপিএ কি ছিলো?
- 4.88
- ও.. অপশনাল সাবজেক্ট কি নিয়েছো?
- উচ্চতর গণিত

খানিকটা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলাম শেষের দুটি প্রশ্ন শুনে। লোকটা একটু হলেও জানে,নাহলে এই প্রশ্নগুলো করার কথা না। উনি পড়াশোনা করছেন নাকি এটা জিজ্ঞেস করতে যাবো কিন্তু উনার দিকে তাকিয়ে মনে হলো বয়স কম হলেও চল্লিশের মতো হবে। এই প্রশ্ন করলে হয়তো লজ্জা পাবেন। তাই আর এই প্রশ্ন করলাম না। জিজ্ঞেস করলাম বাড়ি কোথায় আপনার?

উনি : ঠাকুরগায়। (কিছুক্ষণ থেমে আবার বলতে শুরু করলেন) বাড়িতে আমার ছেলেটি এবার এসএসসি পাশ করে কলেজে ভর্তি হয়েছে সায়েন্সে।
ছেলের কথা উঠতেই উনার গলার স্বর কিছুটা বদলে গেলো। কথার মাঝে একটা অদ্ভুত উচ্ছাসের গন্ধ পাচ্ছিলাম। মনে হলো ছেলের কথা বলতে গর্বিত বোধ করছেন উনি।

আমি : ভালো। ওর রেজাল্ট কি ছিলো এসএসসিতে?

উনি : 4.89 । ওকে নিয়ে আমার অনেক আশা। এইচএসসি পরে ভালো কোনো প্রতিষ্ঠানে পড়বে, জীবনে কিছু একটা করবে। সেই জন্য সবার আগে ওর এইচএসসিতে ভালো রেজাল্ট করা দরকার।

আমি : হ্যাঁ তা ঠিক। এইচএসসিতে রেজাল্ট একটু খারাপ হলে তো ভালো সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে চান্স পাওয়া অনেক টাফ হয়ে দাড়ায়। এই টেনশনে নিজেও ভুগছি।

উনি : ওর পড়ালেখার জন্য যে বাড়তি খরচটা আসে তা পোষাতেই রিকশা চালাচ্ছি। না হলে কৃষি কাজ করেই টানাটানি করে আমাদের পরিবারের চলতো। চারটি সাবজেক্ট প্রাইভেট পড়ছে, থাকে মেসে। হোস্টেলে দেই নি সেখানে ওর কষ্ট হবে ভেবে।

আমি : আপনার অনেক বড় স্বপ্ন ভেঙ্গে যাবে যদি সে এইচএসসি পরে ভালো কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে না পারে, তাই না।

উনি : সরকারি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে না পারলে কষ্ট করে ভালো কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেই পড়াবো। কি আর করার

আমি : (অবাক হয়ে) কিন্তু সেখানে তো অনেক খরচ। এখনই ওর পড়াশোনা আর পরিবার চালানোর জন্য রিকশা চালাতে হচ্ছে আপনাকে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পড়াতে এতো টাকা পাবেন কোথায় ?

উনি : কৃষির কিছু জমিজমা আছে। তা বিক্রি করে দেবো। ১৯৯১ সালে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছি। আমার বন্ধুবান্ধব যারা সাথে পরীক্ষা দিয়েছিলো তাদের চারজন এখন প্রফেসর, ডাক্তারও হয়েছে কয়জন। অথচ ভালোভাবে পড়লামনা বলে আমার আজ এই দশা। গাইড দেবার মতো কেউ ছিলোনা তাই বিপথে চলে গিয়েছিলাম। কিন্তু আমার ছেলেকে গাইড দেয়ার জন্যতো আমি আছি। আমি থাকতে আমার ছেলের জীবনের এই পরিণতি হতে দেবো না। ওকে পড়িয়ে যাবো, যত কষ্টই হোক।

কথাগুলো শুনে আমার মুখ দিয়ে আর কোনো শব্দ বেরোচ্ছিলো না। নিজেকে খুব ছোট ও অপমানিত অনুভব করছিলাম। একটা মানুষ যাকে রিকশা চালাতে হয় যাতে ছেলের পড়ালেখা ঠিকমতো চলে। ছেলেকে চারটে সাবজেক্ট প্রাইভেটও পড়াচ্ছে। ছেলের রেজাল্ট খারাপ হলে আয়ের উৎস কৃষি জমি বিক্রি করে তাকে পড়াবে এমন মানসিকতাও সে তৈরি করে নিয়েছে। পড়ালেখার মূল্য এর থেকে বেশী আর কে বুঝে! টাকাপয়সার অভাবে পড়ালেখা চালাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে, তার পরেও উনার ছেলে পড়ালেখা করে যাচ্ছে। আর আমাদেরকে আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহ তাআলা এদের তুলনায় অনেক বেশিই দিয়েছেন কিন্তু তার পরেও ভালোভাবে, মন দিয়ে পড়ালেখা করি না, আরাম-আয়েশ আর বিনোদনকেই প্রাধান্য দেই... ...

লিখা: