ডিজিটাল নেটওয়ার্ক অ্যাক্সেস-ডিএনএ

World best Online education and Money earning informer Network from Bangladesh.

Online education and Money eran Tutorial

Easy access,Get money eran sucess.Online money earn informer site.

Entertainment for All

All in One service in our site . Just access and go,enjoy,share with others .

All type of Android and iOS Mobile Apps

Enjoyale,smooth,easy,free Android,Windows Mobile Apps download now.

Dedicate Customer care 24/7-365

Exparince Customer care.Customer servie first,Any time, any where,any question, just ask me +880-1918-388-377

Showing posts with label মোটিভেশন/ প্রেরণা. Show all posts
Showing posts with label মোটিভেশন/ প্রেরণা. Show all posts

Wednesday, 4 December 2013

হিউম্যান সাইকোলজি বলে,

১. যদি কোন মানুষ সবসময়ই খুব হাসে,
এমনকি যে সামান্য কোন ব্যাপারে নিয়েও
হাসি চেপে রাখাতে পারেনা। সে আসলে সবই
খুবই একা ফিল করে।
২. যদি কোন মানুষ খুব বেশি ঘুমায়
তবে সে দুঃখি একজন।
৩. যদি কোন মানুষ সবময় কম
কথা বলে এবং যখন সে কথা বলে তখন দ্রুত
বলে, তবে সে কিছু গোপন করছে।
৪. যদি কোন মানুষ
কাদতে না জানে বা কখনো কাঁদতে না পারে
৫. যদি কোন মানুষ খাওয়ার সময় সভ্য
ভাবে না খায় তবে সে খুব চিন্তিত।
৬. যদি কোন মানুষ খুব সাম্যান্য
ব্যাপারে কেঁদে ফেলে তবে সে নরম মনের
মানুষ।
৭. যদি কোন মানুষ সমান্যা ব্যাপারেই ঘন
ঘন রেগে যায় তবে তার
ভালোবাসা প্রয়োজন।
*** মানুষকে বুঝতে চেষ্টা করুন***

Monday, 2 December 2013

নিজেকে জানতে মনোবিজ্ঞানের ব্যবহার এবং ব্যক্তিত্বের সুপ্ত সম্ভাবনা ও আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তোলার উপায়

বিভিন্ন সময় বারবার প্রমাণিত হয়েছে যে, আত্মবিশ্বাস খুবই আকর্ষণীয় একটা গুন। আত্মবিশ্বাস যেমন আপনাকে কলিগের প্রশংসা যোগাবে তেমনি বন্ধুদের সম্মান এবং এমনকি আপনার প্রতি বিপরীত লিংগের আগ্রহের কারণও এই একটি ব্যপার। সত্যি কথা বলতে আত্মবিশ্বাস ছাড়া আর যত টেকনিকই অ্যাপ্লাই করুন না কেন তার কাজে লাগবার সম্ভাবনা একদম নেই বললেই চলে। আর আজকের পর্ব তাই আত্মবিশ্বাস।

আমাদের মাঝে যোগ্য থেকে যোগ্যতর লোকের মাঝেও দেখা যায় আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি। কষ্টকর অথবা জটিল ছোটবেলা, অসাবধান অবিভাবক, সমাজের দৃষ্টিকোণ থেকে অসুন্দর চেহারা বা দৈহিক গড়ণ, স্বল্প ব্যাংক অ্যাকাউন্ট অথবা আশেপাশের লোকজনের নিজেকে অতিরিক্ত জাহির করা – এসব অসংখ্য কারণে সুযোগ্য ব্যক্তিত্বের অধিকারী লোকও অনেক সময় আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলতে পারেন। এমনকি আত্মবিশ্বাসের অভাবে অনেক সুযোগ্য লোকও যে মেয়েদের চোখে চোখ রেখে কথা বলতে ভয় পায় এমনটা আমরা সবাই জানি। আর নারীর ব্রেইনের ডান পাশ তথা আবেগীয় অংশ পুরুষের তুলনায় বেশি কাজ করে যার ফলে তার ইন্টুইশন প্রকৃতিগত ভাবে একটু বেশি হয়ে থাকে। পুরুষের মাঝের আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি তাই মনের অজান্তেই নারীর বুঝে ফেলবার একটা প্রবণতা লক্ষ করা যায়। তবে এই লেখাটি নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাইকে আত্মবিশ্বাস যোগানোর জন্যই লেখা।

সাইকোলজির কিছু বিশেষ টেকনিক ব্যবহার করে আমরা সবাই পারি নিজের মনের অবচেতন প্রক্রিয়াকে গাইড করতে আর শুধমাত্র তখনই এর সীমিত মনোভাব অথবা নেগেটিভ স্বৈরশাসন হতে নিজেদের রক্ষা করতে সক্ষম হবো আমরা। আর অবচেতন মন যদি নেতিবাচক হয়ে থাকে তবে তাকে রিপ্রোগ্রাম করবার জন্য দরকার শুধু সচেতনতার সাথে নিজস্ব উপলব্ধি, দৃষ্টিভংগী এবং আবেগ সম্পর্কে সচেতন হওয়া।

হুনা- হাওয়াইন কাহুনা জাতির গুপ্ত জ্ঞান হুনাকে বিশ্বের সামনে সর্বপ্রথম তুলে ধরেন ম্যাক্স ফ্রিডম লং যার সাথে মনোবিজ্ঞানের তৎকালীন কিছু তত্ত্বের অদ্ভুত সাদৃশ্য লক্ষ্য করেন তিনি। ব্যক্তিগত ভাবে হুনার সাথে আমার পরিচয় হয় ভারতে পর্বতারোহণের ওপর প্রশিক্ষণ নিতে গিয়ে সেখানকার লাইব্রেরিতে। বিশ্বের সেরা পর্বতারোহী রেইনহোল্ড মেসনার তার কোন একটি লেখায় হুনাকে তার জীবনে বিশেষভাবে ছাপ ফেলে যাওয়া দর্শন বলে উল্লেখ করেন। এর পরে হুনার ওপর আরো কিছু বই পড়বার পর মেডিটেশন থেকে শুরু করে মনের ওপর কতৃত্ব স্থাপন করবার আরোও অনেক টেকনিক খুঁজে পেলেও আজ প্রধানত এর মৌলিক নীতি গুলো কিভাবে আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর ক্ষেত্রে এবং জীবনকে অর্থবহ করবার জন্য ব্যবহার করা যায় সে ব্যপারে লেখবার এই চেষ্টা।
হুনার সবচাইতে মৌলিক তত্ত্ব মতে আমরা প্রত্যেকে নিজস্ব বাস্তবতাকে নিয়ন্ত্রন করি আমাদের যার যার চিন্তা ও বিশ্বাস দিয়ে।

"The most fundamental idea in Huna philosophy is that we each create our own personal experience of reality by our beliefs, interpretations, actions and reactions, thoughts and feelings."
অর্থাৎ এই তত্ত্ব মতে আমাদের প্রত্যেকের সৃষ্টিশীল উদ্ভাবনী ক্ষমতা অসীম। অন্য কথায়, প্রতিটি মানুষ তার নিজস্ব চিন্তাভাবনার ক্ষমতা অনুযায়ী যে কোন কিছু সৃষ্টি করতে সক্ষম। আর জীবনের যে কোন ক্ষেত্রে তাই আমাদের নেতিবাচক চিন্তাভাবনা গুলো পজিটিভ বিশ্বাস দিয়ে প্রতিস্থাপন না করতে পারলে সত্যিকারের সাফল্য সম্ভব নয় বলেই আধুনিক মনোবিজ্ঞানীদের ধারণা। আসুন জেনে নেয়া যাক হুনার প্রধাণ সাতটি নীতি।

১. প্রত্যেকের বাস্তবতা তার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গির ফসলঃ
আমরা প্রত্যেকে নিজস্ব চিন্তাভাবনা, বিশ্বাস এবং দর্শন দিয়ে প্রতিনিয়ত আমাদের নিজস্ব বাস্তবতাকে গঠন এবং পরিবর্তন করে চলেছি। অর্থাৎ শুধুমাত্র আমাদের চিন্তার প্যাটার্ন পরিবর্তন করে আমরা নিজেদের বাস্তবতাকে পরিবর্তন করতে সক্ষম।

২. সীমা বলে কিছু নেইঃ
এই তত্ত্ব মতে আমাদের মন এবং শরীরের মাঝে কোন বাঁধা বা সীমা যেমন নেই, তেমনি প্রকৃতির সাথেও মানুষের যোগাযোগের মাঝে কোন বাঁধা নেই, একমাত্র আমাদের নিজেদের তৈরি করা সীমিত সচেতনতা ছাড়া।

৩. মনোযোগ বা ফোকাসের স্থানেই আমাদের আধ্যাত্মিক এনার্জি বা শক্তি ক্ষয় হয়ঃ
বিশেষ কিছু চিন্তার দিকে নিজস্ব মনোযোগ দিয়েই আমরা আমাদের জীবনের ঘটনাগুলো লিখে যাচ্ছি। আমাদের পজিটিভ বা নেগেটিভ দৃষ্টিভংগীর জ্বালানী হলো গিয়ে ফোকাস অথবা মনোযোগ। প্রতিটি মানুষ যেভাবে তার জ্বালানী ব্যবহার করে সেই হিসাবে তার পরিণতি হবে।

৪. সকল ক্ষমতার উৎস বর্তমানঃ
অতীত বা ভবিষ্যত বাদ দিয়ে আমাদের প্রত্যেকের নিজ নিজ ক্ষমতার উৎস বর্তমানে এবং এর ব্যবহার শুধুমাত্র বর্তমানেই করা সম্ভব। কোন বিশেষ মুহুর্তের অপেক্ষায় না থেকে শুধুমাত্র বর্তমানেই নিজস্ব সীমিত চিন্তাভাবনা গুলো পরিবর্তন করে ভবিষ্যৎ কে পরিবর্তন করা সম্ভব।
"As you change your mind at the present, you change your experience of future."

৫. একমাত্র ভালোবাসা দিয়েই প্রকৃত সুখ অর্জন করা সম্ভবঃ
জীবনের যে কোন ক্ষেত্রে, যে কোন কাজে এবং যে কোন বিশ্বাসে ভালোবাসার ভিত্তি ছাড়া কোন প্রকার সুখী ফলাফল বা পরিণতি আশা করা যায়না।

৬. আমাদের সব ক্ষমতার উৎস আমরা নিজেরাইঃ
আমাদের বাস্তবতাকে পরিবর্তন করতে চাইলে অবশ্যই কোন অলৌকিক ঘটনার ওপর নির্ভর করা যাবে না অথবা বাহ্যিক কোন ঘটনা অথবা ভাগ্যকে দোষারোপ করা যাবেনা। আমাদের বাস্তবতার জন্য অন্য কোন ব্যক্তি দায়বদ্ধ হতে পারে না, তাই নিজের বাস্তবতার ওপর অন্য কাউকে ওই ক্ষমতা দেবার দায়টিও আমাদের নিজস্ব। এর মানে হলো গিয়ে প্রত্যেকের নিজ নিজ অবস্থানের জন্য তার ভাগ্য, বন্ধুবান্ধব, পরিবার এবং সমাজকে কোনভাবেই দায়ী না করে নিজস্ব দায়দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে।

৭. কার্যকারিতাই আসল সত্যের মাপকাঠিঃ
দু-বন্ধুর তর্কের মাঝে যোগদান করুন এবং আপনি উপলব্ধি করবেন যে সত্যের অনেকগুলো ভার্শন থাকতে পারে। আর এই অসীম মহাবিশ্বের তুলনায় মানুষ এতই ক্ষুদ্র যে তার পক্ষে পরম সত্য খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়। চরম সত্য না খুঁজে তাই কার্যকারিতার ভিত্তিতে নিজস্ব সত্য অনুযায়ী জীবনধারণ করা উচিৎ এবং অপরের সত্যকে সম্মান জানানো উচিৎ , যতক্ষণ তা আপনার অস্তিত্বের জন্য হুমকিস্বরুপ না হয়ে দাঁড়ায়।

নেতিবাচক চিন্তাভাবনা এবং দৃষ্টিভংগীর কুফলঃ
আত্মবিশ্বাস বাড়াবার জন্য ব্যক্তিত্বের মাঝের নেতিবাচক দৃষ্টিভংগী এবং তার প্রভাব চিনতে পারা অত্যন্ত জরূরী। সাধারণ ভাবে আধুনিক মনোবিজ্ঞান অনুযায়ী বলা যায় যে, নেতিবাচক মনোভাব থেকে তৈরি হয় নেতিবাচক মানসিক চাপ, মানসিক চাপ থেকে তৈরি হয় শারীরিক চাপ যা বিভিন্ন অঙ্গ এমনকি দেহকোষেরও ক্ষতি সাধন করে থাকে। নেতিবাচক মনোভাব যখন প্যাটার্ন হিসাবে মনস্তত্বে বাসা গেড়ে বসে তখন তার ক্ষতির পরিমাণ হতে পারে কল্পনার বাইরে।
আর নেগেটিভ মনোভাবকে পরিবর্তন করবার সবথেকে ভাল উপায় হলো প্রতিটি নেগেটিভ মনোভাব সামনে আসার সাথে সাথে তার ব্যপারে অবহিত হওয়া এবং সচেতনভাবে তাকে পজিটিভ একটি বিবৃতিতে রুপান্তর করে ফেলা।

নেগেটিভঃ ভাগ্য বা অসৎ উপায় ছাড়া ধনী হওয়া সম্ভব নয়।
পজিটিভ- আমি বিশ্বাস করি যে মাথা খাটিয়ে এবং নিজস্ব স্বপ্নকে অনুসরণ করে জীবনে সফলতা লাভ করা সম্ভব।

অবচেতন মন
অবচেতন মন নিয়ে সাধারণের বিভ্রান্তির কথা আগেই একটি পর্বে লিখেছিলাম Click This Link অর্থাৎ অনেকেই মনে করেন যে অবচেতন মনের ব্যপারে জানতে হলে আপনাকে যেতে হবে কাউন্সিলর অথবা মনোবিজ্ঞানীর কাছে। হুনা সাইকোলজির মতে আমরা নিজেরাই নিজের অবচেতনকে সবথেকে বেশি নিয়ন্ত্রন করে থাকি। এমনকি অবচেতন মন যে আমাদেরকে পুরো স্বৈরাচারী ভাবে শাসন করে এমনও নয়, বরং যখনই এই অবচেতন মন আপনার কোন একটা কমান্ড বা নির্দেশ মানতে অস্বীকৃতি জানায়, এর কারণ আসলে মূলত সে তাকে দেয়া আপনার পুরোনো নির্দেশ এখনো মেনে চলছে বলেই। এর একটি ভাল উদাহরণ হতে পারে নিজের অবচেতনকে কোন একটি অভ্যাস বদলাবার জন্য প্রশিক্ষণ দেয়া। আমাদের মানসিক এবং শারীরিক অভ্যাসগুলো আসলে অবচেতনের মেমোরীতে রক্ষিত বিভিন্ন আবেগ অথবা উদ্দীপনার ব্যপারে প্রতিক্রিয়া মাত্র। আর একটি খারাপ অভ্যাসকে পরিবর্তন করবার সবচাইতে ভাল উপায় হলো উক্ত আবেগ অথবা উদ্দীপনাটির ব্যপারে অবচেতন মনকে আরো কার্যকরী একটি প্রতিক্রিয়া যোগানো।

উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে কথা বলার সময় তোতলানো অথবা বিরক্তিকর ভাবে “অ্যা ওঁ” ইত্যাদি শব্দ করা। মূলত জীবনের কোন একটা সময় উক্ত অভ্যাসটি আপনাকে সঠিক শব্দ নির্বাচন করবার জন্য অতিরিক্ত সময় দিয়েছিলো, তবে পুনরাবৃত্তির ফলে তা স্থায়ী অভ্যাসে পরিণত হয়ে যায় আর হুনা সাইকোলজি অনুযায়ী এই অভ্যাসটি ত্যাগ করবার থেকে একে আরো কার্যকরী কোন অভ্যাস দ্বারা বদলে দেয়াটাই বেশি বাস্তবিক এবং ফলপ্রসূ হবে।

অর্থাৎ উক্ত অভ্যাসটি একবারে বন্ধ করবার চেষ্টা না করে আপনার কথাবার্তা বা বাক্যে সচেতন কালক্ষেপন যোগ করে অথবা প্রতিবার তোতলানো “অ্যা ওঁ” শব্দগুলো উচ্চারনের ইচ্ছা বা স্পন্দন তৈরি হবার সাথে সাথে আঙ্গুল দিয়ে কোথাও হাল্কা টোকা দেবার মাধ্যমে অবচেতনের অভ্যাসটিকে বদলানো সম্ভব। অথবা সিগারেট খেতে ইচ্ছে হলে শুধুমাত্র ত্যাগ না করে অন্য কোন অভ্যাস দ্বারা তাকে বদলাবার চেষ্টা করাটা অধিক যুক্তিসঙ্গত এবং কার্যকরী। অবচেতন মন স্মৃতিভান্ডার থেকে তথ্য নেয় তাই তাতে শূন্যস্থান না রেখে বরং নতুন কমান্ড দিয়ে তাকে প্রতিস্থাপন করাটা সার্থক হবার সম্ভাবনা বেশি।

মনে রাখতে হবে যে আমাদের অবচেতন মনের প্রধাণ উদ্দেশ্য আমাদের জীবনকে আরো সহজতর করে তোলা। এজন্যই সে তাকে দেয়া ট্রেনিং মেমোরী তে জমা করে রাখে এবং সে অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয় সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। দুঃখজনক ভাবে অবচেতনকে দেয়া ট্রেনিংগুলোর ভিত্তি হতে পারে নেতিবাচক বিশ্বাসের ওপর।
হুনা এবং আধুনিক সাইকোলজি অনুযায়ী আমরা অবচেতনের সাথে যোগাযোগ করে সহজেই নিজস্ব প্রেরণা অথবা মোটিভেশনগুলো খুঁজে পেতে পারি এবং নেগেটিভ চিন্তাভাবনাগুলোকে পজিটিভ মনোভাব দিয়ে প্রতিস্থাপন করে ফেলতে পারি। একইসাথে অবচেতনের সাথে যোগাযোগের বেশ কয়েকটি নিয়মও হুনাতে পাওয়া যায় যায় সাইকোলজির আরেকটি বিভাগ নিউরো-লিঙ্গুইস্টিক প্রোগ্রামিং এর বিজ্ঞানীরাও অনুসরণ করে থাকেন।
অবচেতনের সাথে এই যোগাযোগের প্রথম ধাপে তাকে একটি নাম প্রদান করা হয় এবং তারপর দুটি ভিন্ন উপায়ে তার ডাটাবেস থেকে কোন বিশেষ স্মৃতি খোঁজা হয়। যার একটি হলো ট্রেজার হান্ট। অবচেতনের সাথে ঠিক সেভাবে কথা বলতে হবে যেন সে আপনার বন্ধুস্থানীয় কেউ একজন এবং তাকে তার স্মৃতিভান্ডার থেকে একটি বিশেষ সুখস্মৃতি আনার নির্দেশ দিয়ে দেখুন। এবার খেয়াল করে দেখুন যে উক্ত স্মৃতিটি কতটা বিস্তারিত এবং তার উজ্জলতা কেমন। অথবা অবচেতনকে অনুরোধ করতে পারেন তার তথ্যভান্ডারের সবচাইতে সুন্দর স্মৃতিগুলো সচেতন মনের সামনে নিয়ে আসতে। খেয়াল করবেন যে এমন অনেক স্মৃতি সামনে আসবে যেগুলো হয়ত আপনি ভুলে গিয়েছিলেন এমনকি তার সাথে জড়িত আবেগও হাজির হবে।
স্মৃতিভান্ডার থেকে তথ্য খোজার দ্বিতীয় উপায়টিকে বলা হয়েছে ট্র্যাশ কালেক্টিং অর্থাৎ আবর্জনা সংগ্রহ করা। এ ক্ষেত্রে অবচেতনকে বলুন আপনার জীবনের সবচাইতে বাজে স্মৃতিগুলো আপনার সামনে তুলে ধরতে। যথেষ্টবার এটির পুনরাবৃত্তি করবার পর আপনি আপনার স্মৃতিগুলোর মাঝে কিছু প্যাটার্ন অথবা বিশেষ থিমের ক্লু খুঁজে পাবেন যাতে আপনার সীমিত অথবা নেগেটিভ চিন্তাধারার কিছু উদাহরণ থাকবে। সচেতনতার সাথে লক্ষ্য করলেই দেখবেন যে প্রায় প্রতিটা স্মৃতির সাথেই হয়ত আপনার কোন না কোন ছোটখাট অথবা বড় ধরণের ভয় জড়িত এবং এই ভয়গুলোকে পজিটিভ চিন্তা বা মনোভাব দিয়ে বদলে দিতে না পারলে সারাজীবন আপনার জীবনে এদের প্রভাব থাকবার সম্ভাবনা শতকরা ১০০%। কারণ প্রতিটা ছোট ভয় থেকেই তৈরি হয় বিশাল কোন ভয় এবং তারা নিয়মিত আমাদের অবচেতনকে স্যাবোটাজ করে চলেছে সচেতন মনের অজ্ঞাতেই।

আবেগীয় স্বাধীনতাঃ
হুনা তত্ত্বের খুব বড় একটি তালিম হলো অবচেতন শাসনের শিকার না হয়ে বরং একে দিক-নির্দেশনা এবং ট্রেনিং দেয়া। আর এর একটি প্রধাণ উপায় হলো অবচেতনের কোন বিশেষ আবেগীয় প্রতিক্রিয়াকে মেনে না নিয়ে তাকে প্রশ্ন করা। কোন কারণে আপনি খুব রেগে গেলেন। আপনি যদি নিজেকে বলেন যে “আমি খুব রাগ” তবে হয়তবা এই রাগটি থেকে মুক্তি পেতে আপনার বেশ বেগ পেতে হবে।
বরং নিজেকে যদি আপনি প্রশ্ন করেন যে, “কেন এ মুহুর্তে আমি রেগে যাচ্ছি ? এই বিশেষ আবেগটির উৎস কোথায় ?
এরকম আরো কিছু প্রশ্ন করে আপনি আপনার আবেগটির উৎস খুঁজে বের করতে পারেন সেইসাথে নিজেকে বিশ্লেষণের এই বিশেষ প্রক্রিয়াটি আপনার মানসিক এনার্জি বা ফোকাসকে ডাইভার্ট করে সচেতন চিন্তা প্রক্রিয়ায় স্থানান্তর করার ফলে সেই বিশেষ আবেগটি ধীরে ধীরে তার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।
অবচেতন যে কোন নেতিবাচক চিন্তা প্রক্রিয়াকে সচেতনতার সাথে আপনার ততদিন দিক-নির্দেশনা দিয়ে যেতে হবে যতদিন না আপনার অবচেতন স্মৃতিভান্ডারে উক্ত প্রক্রিয়াটি জমা হয় এবং স্বয়ংক্রিয় ভাবেই সে পজিটিভ স্বিদ্ধান্ত নেয়া শুরু করে।

সচেতন মনঃ
সঠিকভাবে সচেতন মনকে বুঝতে হলে আপনাকে জানতে হবে মানুষের অদম্য “ইচ্ছাশক্তি” এর ব্যপারে। সচেতনভাবে আপনার একমাত্র ক্ষমতা মূলত আপনার সচেতনতা তথা ফোকাসকে কোন একটি বিশেষ চিন্তা অথবা অভিজ্ঞতার দিকে নির্দেশ করা। আর এটাকেই বলা হয়ে থাকে মানুষের “Free will” ।

আপনি চাইলেই অপর একটি মানুষকে আপনাকে ভালোবাসতে বাধ্য করতে পারেন না, অথবা বসকে আপনার বেতন বাড়াতে রাজি করাতে পারেন না। আমরা যেটা করতে পারি তা হলো একটি বিশেষ অভিজ্ঞতাকে কোন দৃষ্টিতে দেখতে পারি তা পছন্দ বা বাছাই করা, এই মুহুর্তে নিজের এবং নিজের দৃষ্টিভংগী পরিবর্তনের মাধ্যমে কিভাবে ভবিষ্যতের অভিজ্ঞতা পরিবর্তন করা সম্ভব তা উপলব্ধি করতে পারা।
আর এই অবিচ্ছিন্ন এবং ক্রমাগত সচেতনতার সাথে ইচ্ছাশক্তিকে একটি নির্দিষ্ট দিকে গাইড করার মাধ্যমেই অর্জন করা সম্ভব কোন ব্যক্তির সর্বোচ্চ উদ্দেশ্য। অন্যদিকে ছোট ছোট প্রতিবন্ধক অথবা অসুবিধা সত্ত্বেও ক্রমাগত নতুন নতুন সিদ্ধান্ত এবং বিকল্প পথ খুঁজে কোথাও পৌছানোকে বলা যায় গোল অথবা লক্ষ্যে পৌছানো।
অন্যভাবে বললে, একটি পদ্ধতি যদি কয়েকবারের চেষ্টায়ও সফল না হয় তবে একজন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ব্যক্তি চেষ্টা করেই যাবে যতক্ষণ না পর্যন্ত সে হয় অধিক কার্যকরী একটি পদ্ধতি আবিস্কার করে, দরকার হলে নিজেকে শুধরে নিয়েও সে এই সিদ্ধান্তে অটল থাকে।

আর একজন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ব্যক্তি এবং দুর্বল চিত্তের অধিকারী ব্যক্তির মাঝে পার্থক্য গড়ে দেয় এই লড়ে যাবার ইচ্ছাশক্তিটুকু। প্রথম জন যেখানে লড়াই চালিয়ে যাবার সিদ্ধান্ত নেয় সেখানে দুর্বল চিত্তের ব্যক্তিটি বরং ভাগ্য অথবা বাহ্যিক কোন কারণকে দোষারোপ করে কাজে আব্যাহতি দেবার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
“Failures and setbacks are fine. Deciding to quit is not.”


লক্ষ্য এবং সর্বোচ্চ উদ্দেশ্যর মাঝে পার্থক্যঃ
হুনা দর্শনে মানুষের লক্ষ্য এবং জীবনের সর্বোচ্চ উদ্দেশ্যের পার্থক্যকে চিহ্নিত করবার পথ দেখানো হয়েছে বিভিন্ন ভাবে। প্রতিটি মানুষের নিজের উদ্দেশ্য সম্বন্ধে জানতে পারার সাথে তার আত্মবিশ্বাস এবং প্রবল ইচ্ছাশক্তির সরাসরি যোগাযোগ আছে বলে এতে সুনির্দিষ্ট করে এই দুইয়ের মাঝে পার্থক্য চিহ্নিত করতে পারাটা আত্মোন্নয়নের পথে বিশেষভাবে জরুরী বলে ধরা হয়েছে।
আর এ দর্শন অনুযায়ী জীবনের সর্বোচ্চ উদ্দেশ্য বা গন্তব্য হলো এমন কিছু যা আপনার জীবনের পুরো সফরটিকে অর্থ প্রদান করতে সক্ষম। আর এই গন্তব্যে পৌছানোর জন্য ছোটখাট যেই গোলগুলো আমরা নিজেদের জন্য ঠিক করি সেগুলোই হলো লক্ষ্য। একটি লক্ষ্যে পৌছানো সম্ভব হলেও জীবনের সর্বোচ্চ উদ্দেশ্য হলো সেটা যা একজন ব্যক্তিকে একটি পরিচয় প্রদান করে, একটি আইডেনটিটি দেয়। আর সর্বোচ্চ উদ্দেশ্য ছাড়া ছোট ছোট লক্ষ্যের কোন মূল্য নেই, যেখানে সর্বোচ্চ উদ্দেশ্য বা গন্তব্য জানা থাকলে তা একজন ব্যক্তির ছোট ছোট লক্ষ্যগুলোকেউ অর্থবহ করে তুলতে পারে। সর্বোপরি, একমাত্র জীবনের উদ্দেশ্যকে জানার মাধ্যমেই একজন ব্যক্তির পক্ষে তার ব্যক্তিত্বের সর্বোচ্চ ইচ্ছাশক্তি আত্মবিশ্বাসের সাথে জীবনে প্রয়োগ করা সম্ভব বলে বলা হয় হুনা সাইকোলজিতে।

"Look for the good in everything and, if you can't find any, figure out a way to put some in."

মনোবিজ্ঞান এবং আধ্যাত্মিকতা-মানুষের ব্যক্তিত্বের ভেতরের চারটি আদিরূপ এবং শ্যাডো পারসোনালিটি

The tragedy of the modern men is that we have forgotten how to cry, to scream, to hunt, to love, to honor, to teach, to initiate." -- Dagonet Dewr

সাইকোলজি নিয়ে পড়াশোনা করতে গিয়ে ঘটনাচক্রে আমার পরিচয় হয় কার্ল ইয়াং এর কাজের সাথে । আর আমার জন্য এটা ছিল গুপ্তধন খুঁজে পাওয়ার মত একটা ব্যপার । সাইকোলজির সাথে আধ্যাত্মিকতার এক অদ্ভুত মিলনের পক্ষে জীবনের অনেক সময় কাজ করে যান কার্ল ইয়াং । মানুষের সত্য খোজার যেই প্রচেষ্টা এটাকে প্রতিটা মানুষের নিজেকে পুর্ণতা দেওয়ার এক অবচেতন চাহিদা থেকে তৈরি হয় ধরে নিয়ে কিছু অসাধারণ কাজের খোরাক রেখে যান তিনি । আর কালেক্টিভ আন-কনশাস তার বহু কাজের একটি । এটাকে বলা যায় সৃষ্টির শুরু থেকে আমাদের ডি-এন-এ অথবা ব্রেইনের অবচেতনে থেকে যাওয়া সকল তথ্য । আর এই অবচেতনে মানব-ইতিহাসের কিছু আদিরূপ আমাদের সবার মধ্যে বর্তমান ধরে নিয়ে মানবচরিত্রের কিছু অসাধারণ বিশ্লেষণ করেন তিনি । নিজেকে এবং অন্যকে বোঝার ক্ষেত্রে এটা এক মারাত্মক জ্ঞান আর নিজেকে বোঝার মধ্যেই সবাইকে বুঝতে পারা আর সবাইকে বুঝতে পারার ভেতরেই সম্ভব সৃষ্টির অর্থ বোঝবার দিকে আরেকটু এগিয়ে যাওয়া । তবে নিজস্ব খারাপ দিকগুলোকে মনোবল বা সাহসের সাথে ফেস না করতে চাইলে এ লেখা এড়িয়ে যাওয়াটাই ভালো হবে।

অ্যানিমা / অ্যানিমাস - ব্যক্তিত্বের মাঝের মেয়েলি ইগোকে বলা হয় অ্যানিমা । আর অ্যানিমাস হলো আমাদের ব্যক্তিত্বের পুরুষ ইগোর রূপ । আর এই অ্যানিমা এবং অ্যানিমাসের সঠিকা ভারসাম্য ছাড়া আমাদের ব্যক্তিত্বের যেই দিকগুলো বের হয়ে আসবার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় তাকে বলা হয় শ্যাডো পারসোনালিটি( ছায়া ব্যক্তিত্ব ), যা আসলে আমাদের ব্যক্তিত্বের সেই অন্ধকার অংশ যার মুখোমুখি হতে আমাদের ভয়ই আমাদের ব্যক্তিত্বের ওপর তাদের একটা অলিখিত কতৃত্ব বয়ান করে । আর নিজস্ব এই ভয়গুলোকে অস্বীকার করলে জীবনের যে কোন সময় যে কোন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তারা আমাদের ব্যক্তিত্বের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিতে পারে, এমনকি আপনার আমার অজান্তেই । শ্যাডো পারসোনালিটিকে আসলে দুষ্ট বলা যাবে না, এটা বরং আমাদের ব্যক্তিত্বের আদিম একটা এনার্জি, যাকে আমাদের ব্যক্তিত্বে সঠিক ভাবে গ্রহণ না করতে পারলে তখন সে হয়ে উঠতে পারে ভয়ানক । বিভিন্ন ধর্মেও নানাভাবে ইগোর ব্যপারে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে, আর কার্ল ইয়াং ঠিক সেটাকেই বৈজ্ঞানিক রূপ দিয়েছেন ।

"Mind – A beautiful servant or a dangerous master."

এবার আসি কার্ল ইয়াং এর মতে আমাদের ব্যক্তিত্বের সেই আদিরূপ গুলোয় । আমাদের ব্যক্তিত্বের মাঝে একইসাথে উপস্থিত বেশ কিছু এনার্জি বা শক্তি সারাক্ষণ আমাদের মনোযোগ আকর্ষণের জন্য লড়াই করে যাচ্ছে । আর এতগুলো শক্তির আওয়াজকে শ্রুতিকটু হতে শ্রুতিমধুর করে তুলতে হলে এর সবাইকেই জানতে পারাটা খুব জরুরী । মনে রাখতে হবে যে, কোন একটা শক্তিকে যখন আমরা সচেতনভাবে ব্যবহার করতে ব্যর্থ হই তখনই সে আমাদের অবচেতনের দখল নিয়ে ব্যক্তিত্বের ওপর কতৃত্ব করে বসতে পারে । আসুন তবে পরিচিত হই আমাদের চরিত্রের এই চারটি আদিরূপ ব্যক্তিত্বের সাথে এবং তাদের দুটি করে শ্যাডোর সাথে । উল্লেখ্য যে, বেশিরভাগ মানুষের জীবনে পরিস্থিতি অনুযায়ী যে কোন একটি আদিরূপ ব্যক্তিত্বের উপস্থিতি অন্যগুলো থেকে বেশি হয়ে থাকে । আর অন্যগুলোর শ্যাডো রূপ থাকে । একজন পরিণত ব্যক্তিত্বের অধিকারী হতে তাই আপনাকে কম-বেশী সবগুলো ব্যক্তিত্বকে বিকশিত করতে হবে যাকে বলা হয় সাইকোলজিক্যাল ইন্টিগ্রেশন ।

১। শাসকঃ
পুরুষ মানুষের ব্যক্তিত্বের একদম কেন্দ্রীয় শক্তি হলো শাসক । ব্যক্তিত্বের এই এনার্জিটি যখন দুর্বল হয়ে পড়ে তখনই আমাদের জীবনে নেমে আসে অন্ধকার, মানসিকতা হয়ে পড়ে বিপর্যস্ত । কারোর জীবন যখন বিপর্যস্ত অথবা অগোছালো হয়ে পড়ে তখন অবশ্যই তাকে তার ব্যক্তিত্বের এই শক্তিটাকে বের করে আনতে হবে এবং সচেতনভাবে কাজে লাগাতে হবে ।

অ্যানিমাসের প্রভাবে সৃষ্ট শ্যাডো – স্বৈরশাসক
একজন শাসক যখন তার ভেতরের নারীস্বত্তাকে পুরোপুরি অস্বীকার করে তখন তার ব্যক্তিত্বের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় অ্যানিমাসের প্রভাবে সৃষ্ট শ্যাডো স্বৈরশাসক । একজন স্বৈরশাসক এটুকু বুঝতে ভুল করে যে একজন শাসক সাধারণ মানুষের সাথে আরো উচ্চতর শক্তির যোগাযোগের একটি চ্যানেল মাত্র । আর নিজের ইন্সিকিউরিটি বা ভয়গুলো এড়িয়ে চলার জন্য নিজেকে সৃষ্টিকর্তার সমকখ্য ভাবতে চায় সে । সমালোচনা শুনতে প্রচণ্ড ভঁয় পায় ব্যক্তিত্বের এই শ্যাডো ।

অ্যানিমা প্রভাবে সৃষ্ট শ্যাডো - দুর্বল শাসক
শাসকের ব্যক্তিত্বে মেয়েলি ইগো কতৃত্ব স্থাপন করলে তৈরি হয় দুর্বল শাসক যে সঠিক ভাবে তার রাজ্য চালাতে ব্যর্থ হবার পাশাপাশি সারাক্ষণ ষড়যন্ত্রের গন্ধ পায় এবং ফলাফল হিসাবে প্যারানয়া আক্রান্ত হয়ে ওঠে । তার চারপাশের লোকজনকে সে অবিশ্বাস করতে শুরু করে এবং ফলাফল হিসাবে নিশ্চিত সে যে কোন সময় তার বিপরীত শ্যাডো অর্থাৎ স্বৈরশাসক হয়ে উঠতে পারে । এটাই শ্যাডো ব্যক্তিত্বের সবচাইতে মজার ব্যপার যে আমরা যা কিছু ঘৃণা করি তার সবই আসলে আমাদের ব্যক্তিত্বের মাঝেরই লুকানো অংশ ।

২। জাদুকরঃ
একজন শাসককে গোপন এবং অতিপ্রাকৃতিক জ্ঞানের আলোকে উপদেশ দিয়ে সাহায্য করা ব্যক্তিত্বটি হলো গিয়ে জাদুকর । বিজ্ঞানী, ইঞ্জিনিয়ার, আইনবিদ, গণিতবিদ থেকে শুরু করে বুদ্ধিজীবী এবং লেখক জাতীয় সবাই কে এককথায় বলা যায় জাদুকর । কারণ নিজস্ব জ্ঞান দিয়ে তারা যেমন শাসককে সাহায্য করে থাকে তেমনি সাধারণ মানুষকে রূপান্তরিত করে ফেলেন তারা নিজস্ব জাদুকরী ক্ষমতা দয়ে । সমাজের রূপান্তরে কোন কোন ক্ষেত্রে শাসকের চাইতেও অধিক ক্ষমতার অধিকারী ব্যক্তিত্বের এই আদিরূপ । নিজেকে এবং সমাজ বা তার মানুষের ব্যপারে অসচেতন ব্যক্তির উচিত নিজের এই ব্যক্তিত্বটিকে আরো শক্তিশালী করে তোলা ।

অ্যানিমাসের প্রভাবে সৃষ্ট সক্রিয় শ্যাডো – প্রতারক
জাদুকর ব্যক্তিত্বের অধিকারীর মধ্যে তার পুরুষ ইগো অধিক শক্তিশালী হয়ে উঠলে সে হয়ে ওঠে ছলনাকারী প্রতারক । গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা জ্ঞান গোপন করে সে সাধারণকে ফাঁদে ফেলে এবং নিজের জাদুকরী প্রতিভা নিয়ে গর্ব অনুভব করে । নিজেকে জ্ঞানী মনে করবার যে গর্ব সে অনুভূতিটুকু পাবার জন্যই তার বাচা, তবে সঠিক মূল্য পেলে সে তার জ্ঞান বিক্রি করতে প্রস্তুত । তার জ্ঞানকে হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করবার দিকেই ছলনাকারী প্রতারকের উৎসাহ । অতিরিক্ত বুদ্ধিমান ব্যক্তিরা বুদ্ধির উপযুক্ত ব্যবহার করতে ব্যর্থ হলে ব্যক্তিত্বের এই শ্যাডোটি সক্রিয় হয়ে ওঠার সম্ভাবনা প্রবল ।

অ্যানিমা প্রভাবে সৃষ্ট শ্যাডো – নির্দোষ জ্ঞানী/মুর্খ / বোকা
অবাক ব্যপার হলেও সত্যি যে, ছলনাকারী প্রতারকের একদম বিপরীতে অবস্থান কারী নির্দোষ এবং দায়িত্বহীন মুর্খ হলো জাদুকরেরই নিষ্ক্রিয় শ্যাডো ব্যক্তিত্ব । এই শ্যাডো আক্রান্ত ব্যক্তি জাদুকরের সমান মূল্য চায় অথচ সমাজের পরিবর্তনে কোন দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানায় । আর তার জ্ঞান সম্পুর্ণ নয় বিধায় তাকে মুর্খের সমকখ্য বলা যায় । আমাদের সমাজে বুঝেও না বোঝার ভান করে থাকা সকল ব্যক্তি এই শ্যাডোতে আক্রান্ত । উল্লেখ্য, ঠকতে ঠকতে একসময় সে নিজেই রাগবশত ছলনাকারী প্রতারক হিসাবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে ।

৩। যোদ্ধাঃ
জীবনে নিজস্ব দর্শনের পক্ষে সবটুকু শক্তি আর উৎসাহ নিয়ে ঝাপিয়ে পড়া ব্যক্তিত্বটি হলো যোদ্ধা । নিজের মিশন বা গোলের দিকে এগিয়ে যেতে সে তুচ্ছ করে নিজের জীবনকে, মৃত্যকে ভঁয় না পেয়ে বরং তাকে সঙ্গী হিসাবে মেনে নেয় যোদ্ধা । আর তার ভায়োলেন্স পৃথিবীর যাবতীয় মন্দের বিরুদ্ধে । একজন যোদ্ধা চিন্তা করে কম আর কাজ বেশি । একজন যোদ্ধা হয় তার শরীর এবং মনের কর্তা । তার গোলের দিকে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে যে কোন শারীরিক ও মানসিক প্রতিকূলতার মুখোমুখি হবার মত ক্ষমতা থাকে তার ।

অ্যানিমাসের প্রভাবে সৃষ্ট শ্যাডো – নির্মম হত্যাকারী/স্যাডিস্ট
যোদ্ধার সক্রিয় শ্যাডো হলো নির্মম হত্যাকারী অথবা স্যাডিস্ট । জীবনের আবেগের সাথে একজন যোদ্ধার বিচ্ছিন্নতার ফলে তার কতৃত্ব নিয়ে নিতে পারে এই স্যাডিস্ট শ্যাডো। বিশেষ করে সম্পর্কের বেলায় তার মধ্যে এই শ্যাডো সক্রিয় হয়ে ওঠবার সম্ভাবনা খুব বেশি থাকে । দুর্বলতার প্রতি স্যাডিস্টের এক বিশেষ ক্ষোভ থাকে যা আসলে তার ভেতরে লুকানো দুর্বলতা আর ইন্সিকিউরিটি থেকেই জন্ম নিয়ে থাকে । নিজেকে প্রচণ্ড নিম্ন মনে করা থেকেই তার ভায়োলেন্সের শুরু এবং নিজের কাছের মানুষগুলোকে নির্যাতন করবার পাশাপাশি নিজেকেও যন্ত্রণার শেষ পর্যায়ে নিয়ে যায় এই স্যাডিস্ট লোকেরা ।

অ্যানিমা প্রভাবে সৃষ্ট শ্যাডো – দুর্বল / আত্মনিগ্রহকারী
অ্যানিমা প্রভাব থেকে তৈরি যোদ্ধার শ্যাডো ব্যক্তিত্ব হলো দুর্বল যে সবলের হাতে অত্যাচারিত হয় অথচ তার নিজের মাঝের শক্তি ব্যবহার করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করে । এবং তার সাথে ঘটা ঘটনা এবং পারিপার্শ্বিকতা অনুযায়ী যে কোন সময় তার মাঝেও জেগে উঠতে পারে বিপরীত মেরুর স্যাডিস্ট ব্যক্তিত্ব । উদাহরণঃ অতিরিক্ত ভাল ছেলে স্টেরিওটাইপ যখন প্যাসিভ অ্যাগ্রেসিভ উত্তেজনা প্রদর্শন করে ।

৪। প্রেমিকঃ
নারীর ব্যক্তিত্বের একদম কেন্দ্রীয় শক্তি হলো প্রেমিক। পৃথিবী এবং প্রকৃতির যাবতীয় সৌন্দর্য কে যারা উপাসনা করে তারাই হলো প্রেমিক। গায়ক, কবি আর শিল্পী – এরা সবাই প্রেমিক ব্যক্তিত্বের অধিকারী । সবকিছুর সাথে এক হতে পারবার মাঝেই প্রেমিকের জীবন পূর্ণতা পায় আর সকলের অনুভুতিকে সে নিজস্ব ইন্টুইশন দিয়ে অনুভব করতে পারে। ব্যক্তিত্বের আর বাকি তিনটি আদিরূপ কে পজিটিভ এনার্জি দিয়ে তাদের সঠিক ব্যলান্সে রাখবার জন্য এই ব্যক্তিত্বটির গুরুত্ব তাই খুব বেশি।

অ্যানিমাসের প্রভাবে সৃষ্ট শ্যাডো- আসক্ত প্রেমিক/প্লেবয়
অ্যানিমাসের প্রভাবে প্রেমিকের মাঝে সৃষ্ট শ্যাডো ব্যক্তিত্ব হলো আসক্ত প্রেমিক যে তার সৌন্দর্যের পূজার প্রতি এতটাই আসক্ত হয়ে পরে যে তার সৌন্দর্যের মাঝে পূর্ণতা খোজার নেশায় নিজেকে হারিয়ে ফেলে সে । সবার মাঝে নিজেকে খুঁজতে খুঁজতে নিজস্ব স্বকীয়তা বলতে আর কিছু বাকি থাকে না একসময় এই আসক্ত প্রেমিকের। উদাহরণঃ ক্যাসানোভা ।

অ্যানিমা প্রভাবে সৃষ্ট শ্যাডো- দেবদাস বা আত্মহননকারী প্রেমিক
প্রেমিকের নারী ইগোর ফলে সৃষ্ট শ্যাডো ব্যক্তিত্ব হলো গিয়ে সে যে প্রেম করতে গিয়ে নিজেকে হারিয়ে ফেলে আত্মহননের পথ বেছে নেয় । আবার রাগ থেকে সে বিপরীত শ্যাডো ব্যক্তিত্ব আসক্ত প্রেমিকেও পরিণত হতে পারে যে কোন সময়।

সাইকোলজিক্যাল ইন্টিগ্রেশন বলতে যা বোঝায় তা হলো একইসাথে বিভিন্ন ব্যক্তিত্বের মিলিতকরণ । আর একমাত্র প্রতিটা ব্যক্তিত্ব এবং তার শ্যাডোগুলো বুঝতে পারবার মাধ্যমেই তা সম্ভব। আর সচেতনতার সাথে খেয়াল করলেই আমাদের নিজেদের দৈনন্দিন জীবনে এদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা সম্ভব । প্রথমেই বুঝতে হবে আপনার জীবনের সবচাইতে শক্তিশালী ব্যক্তিত্বটিকে এবং ধীরে ধীরে উন্নীত করতে হবে বাকি তিনটি ব্যক্তিত্বকে। যেমন “শাসক” ব্যক্তিত্বটির বিকাশ করতে চাইলে আশেপাশের লোকজন নিয়ে যে কোন প্রজেক্ট শুরু করা যায়, তেমনি “যোদ্ধা” ব্যক্তিত্বটির উন্নীতকরনের জন্য করা যায় শরীরচর্চা এমনকি মার্শাল আর্ট অথবা দীর্ঘদিন ধরে এড়িয়ে চলা কোন সংঘাত। নিজের শৈল্পিক চেতনা বাড়ানোর মধ্যে দিয়ে যেমন করা যায় “প্রেমিক” ব্যক্তিত্বের বিকাশ তেমনি বিভিন্ন জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে বিকাশ করা যায় ব্যক্তিত্বের জাদুকরী প্রতিভা । এজন্যই প্রয়োজন নিজের সবগুলো শ্যাডো পারসোনালিটির ব্যপারে সচেতন হওয়া ।

Thursday, 28 November 2013

রাগ নিয়ন্ত্রণের সহজ উপায়।

১. বসে পড়ুন। কারণ, দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় মানুষ বেশি রাগ প্রকাশ করে। সম্ভব হলে শুয়ে পড়া ভালো। রেগে গেলে শুয়ে পড়লে রাগ অনেকটাই চলে যায়।

২. রেগে গেলে প্রতিটা কথা বলার আগে ৫ সেকেন্ড করে সময় নিয়ে চিন্তা করুন। কারণ রেগে গেলে অনেক সময় এমন অনেক কথা বলা হয় যা অন্যের এবং নিজের জন্য ক্ষতিকারক।

৩. হঠাৎ করে রেগে গেলে মনে মনে প্রথমে ১ থেকে ১০ গুনুন। এর পর আবার উল্টো দিক থেকে অর্থাৎ ১০ থেকে ১ গুনুন। তাহলে দেখবেন অনেকটাই চলে গেছে রাগ।

৪. রাগ করলে কারো সাথে কথা না বলে চুপচাপ নিজের রুমে বসে থাকুন। কিছুক্ষণ পরে রাগ কমে গেলে আপনার রাগ করার কারণ বুঝিয়ে বলতে পারেন।

৫. রাগে অহেতুক ভাঙচুর না করে পুরোনো খবরের কাগজ ছিঁড়ুন। কাগজ ছিঁড়লে রাগ কমে যায় একেবারেই। তাই কাঁচের জিনিস কিংবা সাধের ফোনটা না ভেঙ্গে অপ্রয়োজনীয় খবরের কাগজ ছিড়ে কুচি কুচি করুন। তাহলে রাগ ধুলোয় মিশে যাবে।